কাব্য: শেষ চুম্বন
{সংযোজিত সংস্করণ}
শেষ চুম্বন- হাসান কবীর
প্রকাশকঃ হাবিব মোশাররফ, শুচি প্রকাশনী, কিশোরগঞ্জ সদর-২৩০০। ০১৭১৫-৭২২৮২২
প্রথম সংস্করণঃ ডিসেম্বর-২০১৬, প্রথম প্রকাশ ঃ ফেব্রুয়ারি-২০১০
গ্রন্থস্বত্বঃ কোহিনূর, প্রুছদঃ লেখক, ০১৭ ২২ ৬৬ ২২ ১১, কম্পোজ ঃ আকিঞ্চন, ভৈরব
মূদ্রণ ঃ আকিঞ্চন, ভৈরব, মূল্যঃ ১২০ টাকা মাত্র।
Sesh Chumban BY Hassan kabir
Published by Habib Musharrof, Shuche Prokashony, Kishoregonj- 2350, 01715-722822, Compused: Akinchan.
Price : 120 tk Only, USA- $3
ISBN_978-984-91791-7-7
ভূমিকা
‘শেষ চুম্বন’ কাব্যটি ২০০৮ সালের একুশে বইমেলায় মুহ. শহীদুল্লাহ্’র অনুপ্রেরণা, মুহাম্মাদ জুনাঈদ ভাইয়ের কারিগরি সহযোগিতা, বড় ভাই কাউছার ও ছোট ভাই মুস্তাকিমের সহযোগিতায় আমার স্ব-প্রতিষ্ঠিত মাতৃভূমি প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়। তখন মাত্র ২৬টি কবিতা অত্র কাব্যের অন্তর্গত ছিল। বর্তমান সংস্করণটিতে আরো ১৬টি কবিতা নতুন করে অন্তর্ভূক্ত করে মোট কবিতার সংখ্যা ৪২ করা হয়েছে। সেই সাথে পুরাতন কবিতাগুলোকেও আমূল সংস্কার করা হয়েছে। ফলে একজন পাঠক আগের প্রকাশনায় পঠিত কবিতাগুলো পাঠ করলেও নতুন কবিতার স্বাদ অনুভব করবেন।
গ্রন্থটি পাঠের ক্ষেত্রে পাঠকের কাছে যেন এক ঘেয়েমি ভাব পরিলক্ষিত না হয়, সেজন্যে অত্র গ্রন্থটি ভিন্ন স্বাদের কবিতা দিয়ে বিন্যাস করা হয়েছে। আশা করি অত্র গ্রন্থটি পাঠকের হৃদয় আন্দোলিত করে মনের কোণে ঠাঁই করে নিতে সামর্থ্য হবে।
১৫ জুলাই ২০১৭
কালীপুর, ভৈরব, বাংলাদেশ।
সূচীপত্র-
অভিভূত
ছিল
শুধু অপেক্ষা আর অপেক্ষা
কবে
হবে দু’জনার দেখা।
দুটি
মন কত যে স্বপ্ন বুনছিল
ভাবনাগুলো
ঘুম কেড়ে নিল।
সেই
ক্ষণটির কথা ভেবে
কখন
দেখা হবে?
হঠাৎ
করেই যখন হলাম মুখোমুখি
হলো
দেখাদেখি
দু’জোড়া চোখ শীতল হল তখন
জুড়িয়ে
গেল দুটি মন।
অভিভূত
আমি, অভিভূত তুমি
অভিভূত
সেই স্রষ্টাস্বামী ॥
২৩ জুন
২০০৭ খ্রি., সোনারামপুর, আশুগঞ্জ,
বি.বাড়িয়া
মনটা
তোমার কাছে
মাগো
আমি তোমার সন্তান
জানিয়ে
দিলাম বিশ্বটাকে,
কত কষ্ট
দিলাম তবু
আগলে
রাখলে নিঃস্বটাকে।
ভেবো
না মা তোমার সন্তান
অনেক
দূরে আছে,
যত দূরে
যাই না কেন
মনটা
তোমার কাছে।
দুঃখ-সুখে
তোমায় ডাকি
চক্ষু
বুঁজলে তোমায় দেখি
বেঁধে
রেখেছো মায়ার ডোরে
অবুঝ
এই সন্তানটাকে।
রেখেছ
উদরে পেয়েছ ব্যথা
কাউকে
বলনি দু’খের কথা
গিয়েছ
হাজার যাতনা সয়ে
পালিতে
বুকের মানিকটাকে ॥
২৫ মে
২০০৬ খ্রি., চর ঝাকালিয়া, কটিয়াদী,
কিশোরগঞ্জ।
শেষ
চুম্বন
জানি
লগ্নটা পার হলেই
কালেমা
জপ করে
চির
দিনের তরে
তুমি
অন্যের হয়ে যাবে।
তখন
তুমি পরাধীন।
নিজের
বলতে তোমার কিছুই রবে না।
এমন
কি বড় যতনে আগলে রাখা
ঐ ছিমছাম
দেহটাও না।
পরের
শিকল তোমার পায়ে জড়ানোর আগে
চারদিক
ভেবে চিন্তে
তোমার
সামনে এসে দাঁড়ালাম
শেষ
দেখা দিতে।
আমায়
দেখে চোখ জুড়িয়ে নাও
প্রাণ
খুলে ফুলের মত হাসো,
মিষ্টি
স্বরে বল আরো দুটি কথা
পরের
বাসরে যাবার আগে।
এই সুযোগে
সবাই যখন
উৎসবে
মেতে সুখে বিভোর
সবার
অলক্ষ্যে করে যাও আমায়
শেষ
চুম্বন ॥
২৮ পৌষ
১৪১৩বাং, ১১ জানুয়ারি ২০০৭খ্রি., কালীপুর,
ভৈরব, কিশোরগঞ্জ।
অগ্নিঝরা
গান
আর নয়
ভেদাভেদ, মিছে দ্বিধা সংশয়,
ঐক্য
সাম্য দিয়েই এ ধরাকে করবো জয়।
জাগো
হে বাংলাদেশি, জাগো যত ঘুমন্ত প্রাণ,
তোমাদের
তরে গেয়ে যাই অগ্নিঝরা এ গান।
হলো
কত মারামারি, আরো যুদ্ধ-সংঘাত,
সবকিছু
ভুলে গিয়ে ফুটাবো রাঙ্গা প্রভাত।
জাগো
হে নওজোয়ান, জাগো যত বিপ্লবী প্রাণ,
তোমাদের
তরে গেয়ে যাই অগ্নিঝরা এ গান।
আর নয়
হিংসা ও রেষারেষি-কষাকষি,
ফুল
হাতে এসো বন্ধু ছুঁড়ে ফেলে তেজ অসি।
জাগো
হে বিবেকবান, জাগো যত মজলুমান,
তোমাদের
তরে গেয়ে যাই অগ্নিঝরা এ গান।
ঘুচবে
ভ্রান্তি আসবে শান্তি, প্রয়োজন শুধু একতা,
পাওয়া
ও না পাওয়ার কথা ভাবছো কেন অযথা?
গেয়ে
উঠো তুমিও জাতির ঘুম ভাঙ্গানো গান,
তোমাদের
তরে গেয়ে যাই অগ্নিঝরা এ গান।
২৫ মে
২০০৭ খ্রি., সোনারামপুর, আশুগঞ্জ,
বি-বাড়িয়া।
এ পথেই
সেদিন
এই সেই
পথ!
এ পথেই
সেদিন তুমি আর আমি
দু’জনে এক সাথে হেঁটে
চলে
এসেছিলাম হাতে হাত রেখে।
ঘর থেকে
বেরিয়ে
আঙ্গিনা
বেয়ে
সারা
জীবনের চেনা পুকুর ঘাটে
দাঁড়িয়ে
থেকে কিছুক্ষণ;
ফিরে
ফিরে দেখছিলাম
কত না
দিন কেটে গেছে আমাদের
এ বাড়ির
আঙ্গিনাতেই
তারতো
কোন হিসেব নেই।
শৈশবের
মধুর স্মৃতি মাখা দিনগুলো
জড়িয়ে
আছে এ আঙ্গিনার সঙ্গেই।
এই পুকুরে
গোসল করতে এসে
কত যে
মেতেছি ডুব খেলায়
তার
হিসেব কে ই বা রেখেছে মনে।
পুরোনো
কবরস্থানের পাশে
বাঁশ, খেজুর আর তালগাছে ঘেরা
এই মেঠো
পথের কথা কি বলবো!
কাঁচা
খেজুর কুড়ানোর স্মৃতিতো ভুলার নয়।
তবুও
দুজন এই পল্লী ছেড়ে
চলে
আসছি দেখে
রোদন
করেছে পথের ধুলিকণাও
যারা
মেতেছিল তোমার স্নেহের পরশ পেয়ে।
সেদিন
কোন কিছুই তোমাকে ধরে
রাখতে
পারেনি আপন করে।
তুমি
কোন কিছুর তোয়াক্কা না করেই
আমার
হাত ধরে চলে এসেছিলে এ পথেই ॥
১৮ এপ্রিল
২০০৬ খ্রি., কালীপুর, ভৈরব,
কিশোরগঞ্জ।
তুমি
তো তুমিই
তুমি!
তুমিতো তুমিই,
তোমার
কি ই বা উপমা বল দেই।
যত উপমা
দেই ভেবে পাই না হে,
তার
কোনটাই তোমার যোগ্য নহে।
পুকুর
পাড়ে, নদীর ধারে একা নির্জন-নিরালায়
বসি,
আমার
কবিতায় তোমার উপমায় চাঁদটা পড়ে খসি।
তুমি
স্বর্গের হুর নও, নও যে অপ্সরী,
তোমার
উপমা বল কোথা হতে আহরি।
তুমি
নদীর তীর নও, নও ঢেউয়ের মাতাল ছন্দ,
তোমারে
সাজাতে উপমাগুলোও পরস্পরে করে দ্বন্দ্ব।
তুমি
ময়ূরের পালক নও, নও রংধনু,
তোমার
যোগ্য উপমা খুঁজে পাগল বনে গেনু।
তুমি
ঝর্ণার বারি নও, নও কলতান,
নও ভোরের
পাখির ঘুম ভাঙানো গান।
তুমি
গহীন অরণ্যে বেড়ে উঠা লতাপাতা নও,
তুমি
শুধুই আমার ভালবাসা, অন্য কিছু নও।
তোমাকে
তুমি ছাড়া অন্য উপমায় সাজানো ভুল,
তোমার
যোগ্য উপমা খুঁজে কেউ পাবে নাকো কূল ॥
অক্টোবর-২০০৭
ভালবাসা
হয়েই গেল
আমার
হৃদয় রাজ্যের রাণী,
শুনেছো
কি এ হৃদয়ের প্রেমের বাণী।
ঘটনাটা
কেমন ঘটল বলো,
তোমার
আমার ভালবাসা শেষ পর্যন্ত হয়েই গেল।
তোমাকে
মন-প্রাণ সব দিলাম,
সকল
সঁপে এখন আমি রিক্ত হলাম।
অথচ
কি আশ্চর্য্য দেখ একবারও ভাবিনি,
চোখ
বন্ধ করে করতে চলেছি কী?
আমি
ভাবছি না তুমি কেমন,
শুধু
ভাবছি কতই না সুন্দর পবিত্র তোমার মন।
তুমি
কি খুব লম্বা না বেটে,
কি জামা
পড়? লাল না হলদেটে;
তোমার
হাসিতে কি ঝরে? মুক্তো না শিশির,
তোমার
চাহনি কি ঈগলতুল্য না হরিণীর;
তোমার
কেশ দীঘল কালো না আলো আঁধারি,
ক্ষীণদেহী, মোটা তুমি না মাঝারি;
গায়ের
রঙ বাদামী, ফর্সা না কালো,
কেবলই
অনুভব করছি তোমার মনে আছে আলো।
সে আলোতে
আলোকিত কর মোরে,
যেন
এ হৃদয়ের সকল কালিমা পালায় দূরে ॥
অক্টোবর-২০০৭
খ্রি.
প্রেমে
হাসবে ধরা
আকাশ
ভরা চন্দ্র তারা
সবাই
যখন তন্দ্রাহারা
এ সময়
তোমার প্রেমে
হই যদিগো
আপনহারা,
ক্ষতি
কি বল তাতে?
দু’জন দু’জনাতে লুকাতে?
এক জন
হয়ে উঠবো জেগে
আগামী
প্রভাতে।
আমিই
তুমি, তুমিই আমি
এই যদি
হয় বাসনা,
পূণ্য
প্রেমে হাসবে গো ধরা
পরখ
করেই দেখনা।
ছিলেম
যখন বাঁধনহারা
ভয় ছিল
না অন্তরে,
তোমার
প্রেমে বাঁধা পড়ে
মনে
দ্বিধা হারানোর ডরে ॥
০৬ জুলাই
২০০৭খ্রি., সোনারামপুর, আশুগঞ্জ,
বি-বাড়িয়া।
হৃদয়ের
ফুল
হৃদয়ের
গভীরে লালিত গহীন মালঞ্চে
যদি
কখনো কোন বৃক্ষে আসে কলি,
ক্রমশ
তাকে ফুটতে দিও
কষ্টে
দিও না বলি।
কলিটি
ক্রমান্বয়ে যদি ফুটে ফুল হয়ে
হাসে
নির্মল-নির্ঝর হাসি,
আপন
করে সোহাগে পরশ দিও তারে
অযত্নে
যেন না হয় বাশী।
হৃদয়ের
ফুল হৃদয়ে লুকিয়ে রেখো
ধরা
যেন না পড়ে অন্যের চোখে,
প্রকাশ
যদি কর তারে নিয়ে যাবে লোকে
ঈর্ষা, সন্দেহ করবে, কাল যাবে দুঃখে ॥
২৯ ফাণ্ডুন
১৪১১ বাং, ১৩ মার্চ ২০০৫খ্রি., কমলপুর,
ভৈরব, কিশোরগঞ্জ।
তুমি
বদলে গেছ
এখনো
রাত জাগি,
আগের
মতই।
এখনো
স্বপ্ন দেখি,
আগের
মতই।
এখনো
হাসি,
আগের
মতই।
এখনো
কাঁদি
আগের
মতই।
এখনো
গাই গান,
আগের
মতই,
এখনো
কবিতা লিখি,
আগের
মতই।
এখনো
ভালবাসি,
আগের
মতই।
শুধু
তুমি আগের মত নেই,
বদলে
গেছ অনেকটাই ॥
২২ এপ্রিল
২০০৬ খ্রি., কালীপুর, ভৈরব,
কিশোরগঞ্জ।
প্রাণটা
কাইড়া নিছে
মনের
ভুলে
মেঘনা’
কূলে
এসে
দাঁড়িয়েছে সেই রূপসী;
যার
মুখে দোদুল্যমান হাসি।
ভাগ্যের
ফেরে
নেশার
ঘোরে
সহসা
আমি এসে দাঁড়ালাম;
ওর মাঝে
আমাকে হারালাম।
এক পা
পানিতে নেমে একবার পেছনে চায়,
তার
হাসিতে মন আমার উদাস হয়ে যায়।
আমিও
প্রাণ ভরে দেখেছি তার হাসি,
সাহসী
নই বলে বলিনি ভালবাসি।
বর্ণনার
ভাষা নাই তুমি এমন সুন্দরী,
হয়তো
সাক্ষাত পেয়েছিল কোন হুর পরী।
সেই
রূপসী আমার মনে মায়া লাগাইছে,
চোরা
চোখের চাহনি দিয়া প্রাণ কাইড়া নিছে ॥
৫ মে
২০০৬ খ্রি., কালীপুর, ভৈরব,
কিশোরগঞ্জ।
আমিও
স্বার্থপর
জেনো
আমিও স্বার্থপর!
আমায়
করে গেলে পর।
যেখানেই
যাও ছায়া হয়ে
যাব, সব অপমান সয়ে,
তবুও
দেব না আড়াল হতে;
ঘা যতই
দাও আমার ক্ষতে।
আমি
তোমার পাশেই থাকবো,
আমি
তোমার ছবিই আঁকবো।
তুমি
যাবে আর কত দূরে
ডাকব
আমি নতুন সুরে,।
যদি
যাও চলে মাটির ঘরে
দেখবে
সেখানেও আছি পড়ে।
তোমার
স্বার্থ দেখলে তুমি
আমার
সুখ-সুবিধা আমি।
যেখানেই
বাঁধনা ঘর,
জেনো
আমিও স্বার্থপর ॥
১১ অক্টোবর
২০০৫ খ্রি., কালীপুর, ভৈরব,
কিশোরগঞ্জ।
বেদনার
ঘর
ফুলের
সাজানো বাসরে,
রঙ ও
রসের আসরে;
জানি
তুমি গুনছ প্রহর,
ঠোঁটে
নিয়ে হাসির লহর।
ক্ষণে
ক্ষণে মনে আমায় পড়ে,
ভুলে
যেতে চাও তবু আমারে।
এ কি
তব প্রেমের স্বরূপ?
অন্তরে
আমার জ্বলে ধূপ।
ক্ষণ
পরেই অন্য ভুবন,
করে
নেবে খুবই আপন।
আমি
একা সাত সাগরে,
কায়েস
খুঁজে লাইলীরে।
পরকে
নিয়ে গড়বে বাসর
তাইতো
আমায় করলে পর।
মহাখুশি
তুই পেয়ে নব বর,
আমার
বুকে যে বেদনার ঘর ॥
১৫ নভেম্বর
২০০৫ খ্রি., কালীপুর, ভৈরব,
কিশোরগঞ্জ।
অদৃশ্যের
পানে
হাঁটছি, শুধুই হাঁটছি
কিসের
আশায় হাঁটছি
সে তো
আমার জানা নেই।
আমি
হেঁটে চলেছি
এটাই
শুধু জানি।
হঠাৎ
মনে হলো
আমি
মায়াবী টানে
অদৃশ্যের
খোঁজে ছুটছি।
কিন্তু
কোথায় সে অদৃশ্য?
কত দূরে
তার আবাস?
তা আমি
জানতে চাই না।
অদৃশ্যের
পানে ছুটছি
এটাই
আমার সান্ত্বনা ॥
১৭ নভেম্বর
২০০৫ খ্রি., কমলপুর, ভৈরব,
কিশোরগঞ্জ।
ভালবাসার
অভাব
ভালবাসতে
চেয়েছি বহুবার
কিন্তু
পারিনি কখনো,
ভালবাসার
যত স্বাদ
অচেনাই
রয়ে গেছে এখনো।
ব্যর্থ
হয়েছে বার বার
আমার
এ পাগল মন,
যতই
সখীদের সনে
গড়তে
চেয়েছে বন্ধন।
সবাই
শুধু ফাঁকি দিয়েছে
করেছে
খেয়ালীপনা,
কেউ
ভালবাসেনি তাই
আঁকাও
হয়নি আল্পনা।
হস্ত
তালুর প্রেম রেখাটি
বিলীন
হুেছ ধীরে ধীরে,
ভালবাসার
অভাবে বুঝি
পাগড়ি
উঠলো না শিরে ॥
৩০ মার্চ
২০০৬ খ্রি., কালীপুর, ভৈরব,
কিশোরগঞ্জ।
শব্দ
ভাণ্ডার হারিয়ে ফেলেছি
এখন
লিখব
কিন্তু
কি লিখব?
লিখব
একটি কবিতা।
একটি
জীবন্ত কবিতা।
যে কবিতা
চঞ্চল
রসেও
টলমল।
ভরপুর
মধু
খেতে
চায় শুধু।
কিন্তু
কী করে লিখব কবিতা?
আমি
যে শব্দই খুঁজে পাুিছ না।
কারণ!
যেদিন আমি প্রিয়াকে হারিয়েছি
সেদিন
শব্দ ভাণ্ডারও হারিয়ে ফেলেছি ॥
২২ ডিসেম্বর
২০০৫ খ্রি., কালীপুর, ভৈরব,
কিশোরগঞ্জ।
সৎ সাহসী
মিথ্যে
কথা বলবো কেন?
মন্দ
পথে চলবো কেন?
আমি
কি ভাই বোকা নাকি!
নিজে
নিজেকে দেবো ফাঁকি?
অসৎ
সঙ্গ গড়বো কেন?
মেঁকি
আঁকড়ে ধরবো কেন?
আমার
তো ভাই চোখ খোলা
তবে
কেন হবো পথ ভোলা।
অন্যায়
আমি করবো কেন?
অনাচারই
সইবো কেন?
আমিতো
ভাই সৎ সাহসী
শক্ত
হাতে ধরা জানি অসি ॥
০২ আগস্ট
২০০৬ খ্রি., কালীপুর, ভৈরব,
কিশোরগঞ্জ।
নিমন্ত্রণ
বন্ধু!
আজ আর কান্না নয়,
নয় ব্যথা
ভরা মন,
নয় চুপ
থাকার দিন;
নয় আজিকে
অভিমান।
চাঁদের
বুকে ভ্রমণ করে
আবারো
ঈদের আগমন,
আমি
অভাগার ভাঙা ঘরে
রইল
তোমার নিমন্ত্রণ।
ঈদ এসেছে
সবার দুয়ারে
নিয়ে
আনন্দের মেলা,
কামনা
মোর তব তরে
চড়িও
তুমি সুখের ভেলা।
সুন্দর
হোক তব জীবন
ফুলের
মত হোক পবিত্র,
কৃষ্ণতা
সব ঘুচিয়ে যাক
সফলতা
আসুক সর্বত্র ॥
০৪ ডিসেম্বর
২০০২ খ্রি., কালীপুর, ভৈরব,
কিশোরগঞ্জ।
আমার
মাঝে হারিয়ে যেতে
সাগর
পানে চেয়ে থাকি অপলক দৃষ্টিতে,
ভিজতে
চাই অজানা অনুভূতির বৃষ্টিতে।
যত দূর
যায় চোখ ততই দেখি সাগর,
আপনার
মাঝে সাজিয়েছে নীলের বাসর।
পানির
রঙতো নীল নয়,
তবু
কেন এমনটি হয়?
ভেবে
পাইনা এর কোন উত্তর,
জিজ্ঞাসিব
কাকে; ভেবে থামে স্বর।
সাদা
পানি সাগরে কেন নীল দেখায়?
এ কোন
ভেদ লুকিয়ে রয়েছে হেথায়?
আমি
দেখেছি সাগর আর আকাশের মিলনস্থল।
সেখানে
ওরা ছাড়া কেউ নেই, নেই কোন কোলাহল।
তবে
কি সাগর সে নীরবতায়
আকাশের
প্রেমে নিজেকে হারায়
তার
মাঝে আপন স্বত্ত্বাকে জলাঞ্জলি দিয়েছে?
আর এমন
করেই সাগর নীলাম্ভু হয়েছে।
বল, তুমি পারবে না আমার রঙে রঞ্জিত হতে?
নিজেকে
বিলীন করে আমার মাঝে হারিয়ে যেতে?
০২ নভেম্বর
২০০৬ খ্রি., কালীপুর, ভৈরব,
কিশোরগঞ্জ।
আমারে
কান্দাইয়া তুমি
আমারে
কান্দাইয়া তুমি
যদিগো
পাও সুখ,
যত পার
ব্যথা দাও
আমি
পাবো নাকো দুখ।
তোমার
দেয়া আঘাত আমি
পরশমণি
ভেবে,
বিনিময়ে
দেবো শুধু সুখ
আঁচল
ভরে নেবে।
তোমার
তরে খাঁ খাঁ করে
আমার
শূন্য বুক।
যত ঘৃণা
পার তুমি
করে
যাও আমায়,
আমার
ভালবাসা
থাকবে
ঘিরে তোমায়।
সব ব্যথা
যায় পালিয়ে
দেখে
তোমার মুখ ॥
১৫ এপ্রিল
২০০৬ খ্রি., কালীপুর, ভৈরব,
কিশোরগঞ্জ।
তোমার
আশায় চুল পেকেছে
বন্ধু!
তুমি না বলেছিলে
অপেক্ষায়
থেকো, আমি শীঘ্র আসবো ফিরে;
দুজনে
হয়ে একজনা
সারা
জীবন থাকবো পাশে একই নীড়ে।
কই!
এতটা বছর চলে গেছে
আমার
চুল হয়ে গেল সাদা,
তোমার
অপেক্ষায় থেকে থেকে।
সত্য
কথা জানাতে কী ছিল বাঁধা?
অন্যকে
নিয়ে নীড় গড়েছ
এমনটি
ভাবা আমার ভুল,
তবুও
তো তোমার আশায়
আমার
পেকেছে মাথার চুল।
জীবন-যৌবন
শেষ হলেও
মনটা
যে আগের মতই আছে,
তুমি
এলে বাঁধবো বাহুডোরে
ভাববো
না লোকে কী বলবে পাছে ॥
০৪ সেপ্টেম্বর
২০০৬ খ্রি., কালীপুর, ভৈরব,
কিশোরগঞ্জ।
মেঘলা
দিনের স্মৃতি
আকাশ
জুড়ে ঐ বহুদূরে
কালো
মেঘ বেড়ায় উড়ে,
মেঘলা
দিনের স্মৃতিগুলো
অশ্রু
ঝরায় সুরে সুরে।
বৃষ্টি
পড়ে ঝম্ ঝমা ঝম্
দেয়
স্মরিয়ে অতীত স্মৃতি,
মেঘনা’
তীরে
বসলে দু’জন
গায়ে
বসত প্রজাপতি।
সে স্মৃতি
আজ মনে হলে
বুকটা
ভাসে নয়ন জলে।
সূর্য
যেমন যায় হারিয়ে
মেঘের
অন্তরালে,
আবারও
সে উঠে গো হেসে
মেঘটা
সরে গেলে।
তেমনি
কিগো আমার জীবন
আবারো
উঠবে হেসে ॥
৩০ এপ্রিল
২০০৭ খ্রি., সোনারামপুর, আশুগঞ্জ,
বি-বাড়িয়া।
মিলন-বিরহের
সুর
পাড়ি
দিতে হবে অনেকটা পথ
যেতে
হবে দূর, আরও বহুদূর,
কাছে
থেকে করতে আলিঙ্গন
পল্লীবালার
মিলন-বিরহের সুর।
এলাম
চলে লম্বা সফরে নওগাঁ’র কোলে,
পর মানুষ
করতে আপন দূরত্ব ভুলে।
আপন
মনে চলছি পথ, দেখছি পল্লীর রূপ,
কত জনার
মুখে ফুটে উঠে হৃদয়ে জ্বলা ধূপ।
সারি
সারি গাছের ফাঁকে পুকুর পাড়ে মাটির ঘরে,
ঘুমিয়ে
পড়ে স্বজন নিয়ে সারা দিনের ক্লান্তি হরে।
ঢেঁকির
মধ্যে পা ঠেকিয়ে ফুল কুমারী ভানে ধান,
কুলায়
তুলে ঝাড়ে মাতা মুখে পুরে সুপারি-পান।
আপন
মনে নক্সী কাঁথায় ফুল তুলে গাঁয়ের বঁধূ,
পাশে
বসে ছোট কন্যা তার দুই নয়নে দেখে শুধু।
কচি
মনে তার ভাবনা জাগে আগে যদি বড় হতাম,
শুঁইয়ের
ফোঁড়ে কাঁথায় দুঃখ-ব্যথা সব আঁকিতাম ॥
১৫-২০
সেপ্টেম্বর ২০০৬ খ্রি., ভারশো, মান্দা,
নওগাঁ।
চাঁদের
প্রয়োজন নেই
যেদিন
জোছনা ভরা চাঁদটাকে দেখি
জড়িয়ে
আছে ঠিক মধ্য গগনে,
তখন
মনে পড়ে ভালবাসা দিয়ে
তুমি
ঠাঁই নিয়েছ বুকের কাননে।
যখন
তুমি ছিলে না আমার বাহুডোরে,
কণ্ঠে
মোর ভাসতো গান বেদনার সুরে।
তখন
চাঁদটা দেখে আকাশের বুকে,
দুঃখ
ভুলতাম সুখের স্বপ্ন এঁকে।
স্বপ্ন
আমার সত্যি হল
তুমি
কাছে এলে যেই,
তুমি
পাশে আছ তাই
চাঁদের
প্রয়োজন নেই ॥
০২ সেপ্টেম্বর
২০০৬ খ্রি., কালীপুর, ভৈরব,
কিশোরগঞ্জ।
প্রেমের
ছোঁয়া
কে জানত!
প্রেম যে এমন
রিক্ত
করে দেয় দেহ-মন।
তোমার
তরে পরাণে বাজে বেদনার বীণ,
সারাটি
ক্ষণ তোমায় ভেবে থাকি উদাসীন।
তুমি
যদি কাছে না আসতে
এই চোখে
চোখ না রাখতে;
তুমি
যদি ইশারায় না ডাকতে আমায়,
আপন
করে পেতে চাইতাম না তোমায়।
যদি
না বুঝতাম তোমার চোখের ভাষা,
এ হৃদয়ে
জাগতো না তবে এত পিপাসা।
তোমার
ঠোঁটের নীরব ভাষা
প্রেম
সাগরে আমায় ভাসায়।
যত অজানা
শিহরণ জাগে মনে,
তোমার
প্রেমের ছোঁয়া লেগে এ প্রাণে।
২৬ আগস্ট
২০০৬ খ্রি., কালীপুর, ভৈরব,
কিশোরগঞ্জ।
আমিতো
কবি
তোরা
কেন আমার পিছু নিলি বল
কেন
বকছিস পাগল অনর্গল।
আমিতো
তোদের বাড়া ভাতে দেইনি ছাই,
নুন-পান্তা
নিজেরটা নিজেই এনে খাই।
তবে
কেন আমায় নিয়ে এত টানাটানি,
আমায়
দেখে পথে পথে কেন কানাকানি!
আমিতো
আমারে নিয়ে মগ্ন সারাক্ষণ,
কে? কোথায়?
সে খবর
রাখবো কখন?
আমিতো
আমারেই কেবল খুঁজে ফিরি,
আত্মভোলা
হয়ে পথে পথে ঘুরি-ফিরি।
ছন্নছাড়া
আমি, কোনই ঠিকানা নাই,
দু’চোখে যে পথ দেখি সে পথেই যাই।
হেঁটে
হেঁটে পথে পথে পেয়ে যাই অনেকের দেখা,
যাদের
হৃদয়ে আমার ছবি জন্ম হতেই আঁকা।
পরম
আদরে তারা আমায় বুকে জড়িয়ে নেয়,
ভালোবাসা
দিয়ে এই শূন্য বুকটা ভরিয়ে দেয়।
গভীর
ভালোবাসায় জড়িয়ে পড়ে,
ওদের
রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে যাই আমি।
আর এ
মিশে যাওয়াই যত অনিষ্টের কারণ,
ভরা
মজলিশে বলতে হবে তা ভেবেছি কখন?
মিশেই
অনুভব করতে থাকি,
কে কতটা
দিয়েছে তাদেরে ফাঁকি।
কতটা
লুণ্ঠিত তারা, কতটা বঞ্চিত,
শাসনের
যাতাকলে কতটা শোষিত।
গা শিউরে
উঠে আমার, কলম শাণিত হয়,
আমার
কলমের আঁচড়ে সব প্রকাশ পায়।
এটাই
তোদের ক্ষোভ আমাকে মারতে চাস,
পৃথিবীটাকে
তোরা শুধু গ্রাস করতে চাস।
শান্তির
পৃথিবীটা নরককুণ্ড বানাতে চাস,
তোদের
জুলুমের রাজ প্রতিষ্ঠা করতে চাস।
তোরা
বেকুব, জানিস না আমি অমর
আমার
শেষ নেই, আমি অবিনশ্বর।
যুগে
যুগে আসিনি, একবারই এসেছি
মানুষের
ভালোবাসায় অমর হয়েছি।
তোদের
ক্ষোভ, হিংস্রতা ও রোষানল
আমার
কলমকে আরো শাণিত করে,
তোদের
তরে তৈরি করবে শ্মশান,
যেখানে
চিরকালই পুড়ে মরবি।
মরার
আগে শেষ লাফালাফি করে নে,
যত অনল
ছড়িয়ে দে আমার প্রতি।
এতে
আমার কি এসে যায়?
আমিতো
কবি, আমিই কবি
আমি
সবার মাঝে কবি হয়েই
বেঁচে
রবো প্রজন্ম-প্রজন্মান্তর।
২৫ ডিসেম্বর
২০০৭ খ্রি., কালীপুর, ভৈরব,
কিশোরগঞ্জ।
গুম-খুনের
ধুম
বাইক
চালাতে
সেই
ছিল ভালো,
নিজের
খেয়ে কেন করতে গেলে
ভাতাভোগীদের
মুখ কালো।
নিজ
খরচে মেধা খাটিয়ে করলে
হেলিকপ্টার
আবিস্কার,
এই দেশের
কেউ নেবে না
তোমার
মেধা মূল্যায়নের ভার।
উল্টো
ওরা ক্ষেপে গেলে
হতেই
পার খুন-গুম,
খবর
দেখো না মেধাবী গুম-খুনের
চলছে
মহাধুম ॥
দ্বীনের
আলো
সূর্য
থেকে আসে রশ্মি
নাম
তার আলো,
সেই
আলো নেই বলে
রাত্র
হয় কালো।
সূর্যের
আলো না পেলে যেন
আস্ত
জগৎ মরা লাশ,
ভোরে
সূর্য জাগলে সবার
মন-মাঝে
জাগে উল্লাস।
দ্বীনের
আলো না থাকলে
পরকাল
অন্ধকার,
দ্বীনের
আলো জ্বালো হৃদে
যাবার
আগে ওপার ॥
২৬/০৭/২০০০
খ্রি., কমলপুর, ভৈরব,
কিশোরগঞ্জ।
লাইসেন্সধারী
ডাকাত
লাইসেন্সধারী
ডাকাত বলে লোকে যাদের চিনে,
নতুন
ডাকাতেরা আবার লাইসেন্স নিল কিনে।
এরা
এত সভ্য ডাকাত অস্ত্রশস্ত্র নেই,
মিষ্টি
বাক্যে সরল মানুষ হারায় খেঁই।
সেই
সুযোগের সদ্ব্যবহারে ডাকাত দলে,
সব কিছু
ছিনিয়ে নেয় ছলে বলে কৌশলে।
দিন
এনে দিন খায় এমন লোকই শিকার,
নতুন
করে এসব কোম্পানি ছিল কি দরকার?
২০১৩খ্রি., কালীপুর,
ভৈরব, কিশোরগঞ্জ।
কুরআনের
ছাত্র
আয় মুসলিম
শিশু-কিশোর মক্তবেতে যাই,
মক্তবেতে
গিয়ে সবে কুরআন পড়বো ভাই।
কুরআন
পড়লে আল্লাহর প্রিয় হওয়া যায়,
প্রতি
হরফে দশ নেকী দিবেন আমলনামায়।
কুরআন
বিনে জীবন বিধান অন্য কিছু নয়,
সবার
আগে আল কুরআনের ছাত্র হও নিশ্চয় ॥
১০/০৫/২০০০
খ্রি., কমলপুর, ভৈরব,
কিশোরগঞ্জ।
প্রেমের
দুর্বলতা
সরল
মনে ব্যথা দিলে করলে অবহেলা,
চলে
গেলে আমায় ফেলে বুকে প্রেমের জ্বালা।
কষ্টের
কীট ঝেড়ে ফেলে ভুলতে যখন চাই তোমায়,
সে সময়ে
কুটুম হয়ে প্রেম-কাননে ডাক যে আমায়।
ভুলে
যাই তোমার দেয়া অতীতের সব দুঃখ-ব্যথা,
কাছে
গেলে দাওনা ধরা বলা হয় না যে মনের কথা।
ক্ষুদ্র
বুকে বারংবার প্রেম জাগিয়ে কী লাভ তোমার,
আরও
কত মজা নেবে আমার প্রেমের দুর্বলতার।
২৭ জুন
২০১৫ খ্রি., নিউ চন্দ্রবিন্দু ফ্যাশন হাউজ, ভৈরব বাজার, কিশোরগঞ্জ।
কুটুম
পঙ্খীর ডিম
কুটুম
পঙ্খীর ডিমরে বন্ধু খাইতে কতো মজা,
যে না
খাইছে সে পস্তাইছে সরিষার তেলে ভাজা।
বিয়ের
পরে কুটুম ডাকে গেলাম শ্বশুর-বাড়ি,
সরিষার
তেলে ভেজে দিল কুটুম-ডিমের হাড়ি।
ডিমের
শোকে কুটুম পাখি সেদিন আত্মহত্যা করে,
কুটুম
নাই দাওয়াত নাই শ্বশুর-বাড়ির ঘরে ॥
১-১৫
জুলাই ২০১৫ খ্রি., নিউ চন্দ্রবিন্দু ফ্যাশন
হাউজ, ভৈরব বাজার, কিশোরগঞ্জ।
জ্যোতিষ
ও বাবুমশাই
বিহারী
বাবু আসতেছিল সোনার বাংলায়,
পথিমধ্যে
পড়ে গেল সে জ্যোতিষের পাল্লায়।
জ্যোতিষ
বলে বাবুমশাই দেখি তোমার হাতখানা,
ভাগ্য
তোমার দেখবো আমি, লাগবে নাকো এক আনা।
কথা
শুনে বাবুমশাই হাত বাড়িয়ে দিল,
হাত
দেখে জ্যোতিষের চোখ ছানাবড়া হলো।
জ্যোতিষ
বেটা হেসে বলে- ভাগ্য তোমার হাফ,
কথা
শুনে বাবুমশাই দিবেন এক লাফ।
এমন
সময় জ্যোতিষ বলে শুন হে বাবুমশাই,
আগামী
মাসে আমেরিকা যাবে, দশ টাকা দাও তাই।
বাবু
বলে আগামী মাসে আমেরিকা যাবো কিসে?
বাড়িতে
গিয়ে বলি সবাইকে নেচে হেসে হেসে।
এমনি
করে একে অপরকে দেয় কত ধোঁকা,
অবশেষে
দেখা গেল উভয়ের পকেট ফাঁকা ॥
১৪ মে
২০০০ খ্রি., কমলপুর, ভৈরব,
কিশোরগঞ্জ।
বেদনায়
হই ’হত
আমিও
যদি ছোট্ট হতাম, ভালো যে হতো কতো,
তব সনে
করতাম খেলা, ছোট্ট খোকার মতো।
আমার
কপালে আঁকতে যে চাঁদ ঠোঁটের পরশ দিয়ে,
আমার
বুকের সাথে বুক মিশাতে আমায় কোলে নিয়ে।
তোমার
চুলের সৌরভে ভরত যে আমার প্রাণ,
কখনো
আমার কানে করতে ঘুম পাড়ানি গান।
খেলায়
খেলায় মধুর মেলায়, কাটত সকাল-সন্ধ্যা,
আমি
ঘরে ফিরে যেতাম সন্ধ্যায় ফুটলে রজনীগন্ধা।
আমার
এখন বয়স সন্ধি, তোমারও আমার মত,
খোকার
মত ছোট নই বলে যে বেদনায় হই ’হত ॥
১৮ এপ্রিল
২০১১খ্রি., ৫ বৈশাখ ১৪১৮বাং, ভৈরব বাজার, কিশোরগঞ্জ।
সুখ
সুখ
নেই মনে সুখ নেই মনে রব উঠেছে বিশ্বময়,
ইসলাম
ছাড়া সুখ নেই ইসলামেরই আসল জয়।
যত দিন
না আসবে তুমি ইসলামের ছায়াতলে,
তত দিন
তোমার সকল সুখ ব্যর্থ হবে নিষ্ফলে ॥
০৫/১০/২০০০
খ্রি., কমলপুর, ভৈরব,
কিশোরগঞ্জ।
প্রেমের
প্রাপ্যতা
প্রেম-ভালোবাসার
প্রাপ্যতা,
শুধু
ব্যথা, বিরহ, ব্যর্থতা।
যদিও
আসে সাফল্য নিয়ে,
অভাব
এলে যায় পালিয়ে।
প্রেমটা
গাঢ় হয় কেমন?
টাকা
পয়সা হয় যেমন ॥
১৫/০৫/২০০১
খ্রি., কমলপুর, ভৈরব,
কিশোরগঞ্জ।
প্রেমিক
ওলী চেনা দায়
দেখার
লাগি চোখ হলেও সবকিছু না দেখা যায়,
লোক
সমাজে বাস হলেও প্রেমিক ওলী চেনা দায়।।
হয় দেখছো
যারে হাবাবোবা তার বুকে প্রেমের জল,
সাত
সমুদ্রে আছড়ে পড়ে সৃষ্টি করে ঝড় প্রবল।
প্রেমিক
চক্ষু দেখে ঠিকই ফাঁকি দেয়া ভীষম দায়।।
কত ছিন্ন
বস্ত্রীর বুকে জ্বলে মাওলার প্রেমানল,
মহাজগত
ঘুরে বেড়ায় দেহ থাকে ধরাতল।
সাধু
চক্ষু দেখে ঠিকই ফাঁকি দেয়া ভীষম দায়।।
প্রেমিক
ওলী দুজনেইতো থাকে সদা প্রেম পাগল,
একজনে
হয় রূপের কাঙাল অন্যে খুঁজে প্রেমানল।
বেশধারী
ভণ্ডদের ভিড়ে প্রেমিক ওলী চেনা দায়।।
দুঃখ
মনে রয়
কোন
সে মাঝি নৌকা চালায় কেমন করে হায়,
বন্ধু
ছাড়া সবাই আসে আবার যে চলে যায় ॥
ইুেছ
হলে ছাড়ে নৌকা মাঝির মনে যখন চায়,
বন্ধুর
জন্য কী যে কামনা মাঝির খবর নাই।
কত মানুষ
তোলে নৌকায় জায়গা যত লয়,
বন্ধুর
লাগি একটু জায়গা কেন নাহি হয়?
একে
একে শত নৌকা আসে আর চলে যায়,
নৌকার
তোলা ঢেউয়ে মনে বেদনা বাড়ায়।
নৌকা
আসে নৌকা যায় আবার নৌকা খালি হয়,
বন্ধু
আমার আসে না তাই দুঃখ মনে রয় ॥
১০ আগস্ট
২০১৫খ্রি., বাহেরবালী ঝেঁটিঘাট, বাজিতপুর, কিশোরগঞ্জ।
বিরহ-অনল
ভাবি
তোমাকে নিয়ে ছড়া ও কবিতা লিখবো।
লেখা
হয় না।
ভাবি
তোমাকে ঘিরে গল্প-উপন্যাস লিখবো
লেখা
হয় না।
ভাবি
তোমাকে নিয়ে সিনেমা-নাটক বানাবো
বানানো
হয় না।
ভাবি
তোমাকে নিয়ে আমার বাসর সাজাবো
সাজানো
হয় না।
কারণ
আমার ভাবনাগুলো কেবল তোমাকে ঘিরেই।
আমার
স্বপ্ন, আশা, ভালোবাসা সকলি তোমার তরেই।
যখন
তোমাকে সামনে পাই কেবল তোমাতে মত্ত হই,
তব রূপের
নেশায় পাগল তখন এর সময় কই?
কিন্তু
যখন যাও হারিয়ে ভাবনারাও যায় পালিয়ে
কারণ
তব বিরহ-অনল তখন আমা’ দেয় জ্বালিয়ে ॥
০৮ এপ্রিল
২০১৫ খ্রি., দুবাজাইল লঞ্চঘাট, সরাইল,
বি-বাড়িয়া।
স্বপ্ন
ভাংবে
পল্লীর
সেই সরল মেয়ে স্বপ্ন দেখছে আজি,
মনে
শুধু লয় উড়ে যেতে ময়ূর পঙ্খী সাজি।
নব যৌবন
দুরন্ত মন বাঁধ মানতে না চায়,
ভাবতে
চায় না কী যে হবে তার আখের বেলায়।
ভাবতে
চায় না প্রেমের নামে চলে ধোঁকাবাজি,
কষ্টে
ভাসে নারীর জীবন পুরুষ সাজে হাজী।
প্রতারক
বুঝতে চায় না তারও মা-বোন আছে,
ভেবে
দেখ তার প্রেমে পড়া তোমার তরে কি সাজে?
মায়াবী
তুমি উদারমনা, সে-ও কি তোমার মত?
খুঁজে
দেখ তোমার মত তার ফাঁদে পড়েছে কত?
অন্ধ
মনের বদ্ধ বাসনায় যেয়ো না প্রেমাঙ্গণে,
গেলে
তোমার স্বপ্ন ভাংবে, গড়াবে অশ্রু নয়নে।
১৮ মার্চ
২০০২ খ্রি., কমলপুর, ভৈরব,
কিশোরগঞ্জ।
নীচু
কিসের
তোমার শঙ্কা প্রিয়া কিসের অভিমান?
আমায়
দেখে কেন নীরব যে কণ্ঠে ছিল গান।
তোমার
দুচোখে স্বপ্নেরা উড়তো প্রজাপতি হয়ে,
মন যে
তোমার স্বস্তি পেত আমার খবর লয়ে।
অমাবস্যার
অন্ধকারে ভালবাসারা তারা হয়ে,
আমার
সুখে জড়াতো খোঁপায় অজস্র প্রেম লয়ে।
কমলার
কোয়া অধরে ঈদের চাঁদের হাসি,
আমার
দর্শনে ঝরাতো সেথা মুক্তো রাশি রাশি।
ক্ষণ-তরে
হতাম যদি কভু চোখের আড়াল,
তব মন
হত উচাটন ছড়াতো মায়াজাল।
সে তুমি
আজ কেন নীরব হটেছ কেন পিছু,
বল্লে
নাতো কোন অপরাধে হলাম এত নীচু!
২০১১
খ্রি., কালীপুর, ভৈরব,
কিশোরগঞ্জ।
অশ্রু
সিক্ত বিদায়
বহুদিন
যাবৎ ছিলাম আমরা একই বন্ধনে,
এখন
আমরা বিদায় হুিছ সবে ক্রন্দনে ক্রন্দনে।
বিদায়
বেলায় বলি তোমাদের ওহে বন্ধুগণ,
যাবার
পর তোমাদের হৃদে রেখো মোরে স্মরণ।
মনে
করেছিলাম যাবনা কখনো এ বন্ধন ছিঁড়ে,
তবুও
আমি যাুিছ চলে তোমাদের ছেড়ে নিজ নীড়ে।
বিদায়
বেলায় বলি তোমাদের করেছি যদি ভুল,
আপন
গুণে ক্ষমা করে দিও না হয় পাবো না কূল।
আমার
মনে জাগেনি কখনো হতে হবে বিদায়,
মনের
কান্নাশ্রু বল আজ কোথায় নিয়ে লুকাই?
হৃদয়
ছিঁড়ে বেরিয়ে আসছে বিদায়ের সানাই,
তাইতো
আজ উপহার দিুেছা অশ্রু সিক্ত বিদায় ॥
১৯/১১/২০০০
খ্রি., কমলপুর, ভৈরব,
কিশোরগঞ্জ।

কোন মন্তব্য নেই: