বিদায়ী ক্ষণ
বিদায়-পূর্ব রজনীতে আকাশের নিচে দাঁড়িয়েছি যখন,
চতুর্দশী পূর্ণিমার চাঁদ মাথার উপরে ঝুলছে তখন।
সাদা সাদা মেঘের ভেলা ছড়িয়ে ছিঁটিয়ে আছে আকাশে,
চাঁদটাকে আড়াল করতে চেয়ে মিলিয়ে যায় বাতাসে।
দু’ একটি তারাও আমার সাথে তন্দ্রাহারা,
ঘুমন্ত প্রকৃতিতে আমি আজ বাঁধন হারা।
নদীর বুকে চাঁদের আলো প্রেমের রেখা,
দূর পল্লীতে জোনাকীর আলো যায় দেখা।
ব্যথার তুফান বুকে নিয়ে সাথীরা ঘুমে কাতর,
মনভাঙ্গা বিদায়ী ব্যথায় চেঁপেছে বুকে পাথর।
ঠায় দাঁড়িয়ে সারি সারি তাল নারকেলের গাছ,
চলে যাবো দূরে তাই ওরা আমায় দিয়েছে পাছ।
আমায় তুমি দিয়েছিলে পাছ বিদায় নিয়ে আসার ক্ষণে,
তোমার দু’ফোটা অশ্রু রুমালে ধরেছিলাম, পড়ে গো মনে।
সে রুমালে আজো আমি তোমার অশ্রুর গন্ধ পাই,
মন ভাঙ্গা বেদনা ভরা মুখটা আজো ভুলি নাই।
চেয়েছিলে পথ পানে দৃষ্টি যায় যত দূর,
আমার হৃদয়ে বয়ে যায় বেদনার সুর।
বিদায়ী ব্যথায় মন কাঁদে কবে যে পাবো দরশন,
আমাদের আহত মন শিকলে বাঁধা বিদায়ী ক্ষণ ॥

কোন মন্তব্য নেই: