আমিতো কবি
তোরা কেন আমার পিছু নিলি বল
কেন বকছিস পাগল অনর্গল।
আমিতো তোদের বাড়া ভাতে
দেইনি ছাই,
নুন-পান্তা নিজেরটা নিজেই
এনে খাই।
তবে কেন আমায় নিয়ে এত টানাটানি,
আমায় দেখে পথে পথে কেন
কানাকানি!
আমিতো আমারে নিয়ে মগ্ন
সারাক্ষণ,
কে? কোথায়? সে খবর রাখবো
কখন?
আমিতো আমারেই কেবল খুঁজে
ফিরি,
আত্মভোলা হয়ে পথে পথে ঘুরি-ফিরি।
ছন্নছাড়া আমি, কোনই ঠিকানা
নাই,
দু’চোখে
যে পথ দেখি সে পথেই যাই।
হেঁটে হেঁটে পথে পথে পেয়ে
যাই অনেকের দেখা,
যাদের হৃদয়ে আমার ছবি জন্ম
হতেই আঁকা।
পরম আদরে তারা আমায় বুকে
জড়িয়ে নেয়,
ভালোবাসা দিয়ে এই শূন্য
বুকটা ভরিয়ে দেয়।
গভীর ভালোবাসায় জড়িয়ে পড়ে,
ওদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে
যাই আমি।
আর এ মিশে যাওয়াই যত অনিষ্টের
কারণ,
ভরা মজলিশে বলতে হবে তা
ভেবেছি কখন?
মিশেই অনুভব করতে থাকি,
কে কতটা দিয়েছে তাদেরে
ফাঁকি।
কতটা লুণ্ঠিত তারা, কতটা
বঞ্চিত,
শাসনের যাতাকলে কতটা শোষিত।
গা শিউরে উঠে আমার, কলম
শাণিত হয়,
আমার কলমের আঁচড়ে সব প্রকাশ
পায়।
এটাই তোদের ক্ষোভ আমাকে
মারতে চাস,
পৃথিবীটাকে তোরা শুধু গ্রাস
করতে চাস।
শান্তির পৃথিবীটা নরককুণ্ড
বানাতে চাস,
তোদের জুলুমের রাজ প্রতিষ্ঠা
করতে চাস।
তোরা বেকুব, জানিস না আমি
অমর
আমার শেষ নেই, আমি অবিনশ্বর।
যুগে যুগে আসিনি, একবারই
এসেছি
মানুষের ভালোবাসায় অমর
হয়েছি।
তোদের ক্ষোভ, হিংস্রতা
ও রোষানল
আমার কলমকে আরো শাণিত করে,
তোদের তরে তৈরি করবে শ্মশান,
যেখানে চিরকালই পুড়ে মরবি।
মরার আগে শেষ লাফালাফি
করে নে,
যত অনল ছড়িয়ে দে আমার প্রতি।
এতে আমার কি এসে যায়?
আমিতো কবি, আমিই কবি
আমি সবার মাঝে কবি হয়েই
বেঁচে রবো প্রজন্ম-প্রজন্মান্তর।
২৫ ডিসেম্বর ২০০৭ খ্রি.,
কালীপুর, ভৈরব, কিশোরগঞ্জ।

কোন মন্তব্য নেই: