কবি'র জবানবন্দী

সর্বত্র একই আলোচনা- “কবিতার এখন দুর্দিন, কেউ কবিতা পড়ে না, পড়তে চায় না।” আমি এ মতের সাথে পুরোপুরি এক মত নই। কারণ কবিতা হচ্ছে বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে প্রাচীন শাখা, একই সাথে আকর্ষণীয়ও বটে। কবিতার এখন দূর্দিন বলার কারণ হচ্ছে বাজারে যে বিশাল পরিমাণ কবিতার বই আসছে তা পাঠক গলধঃকরণ করছে না। কেন যে মানুষ কবিতাকে গলধঃকরণ করছে না তা অনুসন্ধান না করেই “কবিতার দূর্দিন” কথাটি উচ্চারণ করা কতটা যুক্তিযুক্ত? প্রমথ চৌধুরী বলেছেন- “কাব্য জগতে যার নাম আনন্দ, তার নামই বেদনা”। বর্তমান সময়ের ক'জন কবি'র কবিতায় এ গুণটি পাওয়া যায়? এই গুণতো নেইই, উপরন্তু এমন সব শব্দ কবিতায় ব্যবহার করা হচ্ছে, যা আবৃত্তি করলে মনে হয় যে, কবিতার নামে শব্দের মেঘ গর্জন, শীলা-বৃষ্টি, ইট- পাটকেল ছোঁড়া হচ্ছে শ্রোতার কর্ণকুহরে। এসব কবিতার অর্থ পাঠক খুঁজে পাওয়া তো দূরের কথা, কবি নিজে খুঁজে পান কি না, এই প্রশ্নের কোন উত্তরও কারো জানা নেই। এই যদি হয় কবিতার অবস্থা, তাহলে কেন পাঠক পয়সা খরচ করে এগুলো কিনবেন আর পাঠ করে জীবনের মূল্যবান সময় নষ্ট করবেন। তবু কবিতার এই ক্লান্তিলগ্নে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের “আমার কৈফিয়ত” কবিতার একটি চরণ আমাকে তাড়া করে ফেরে- “অমর কাব্য তোমরা লিখিও, বন্ধু, যারা আছ সুখে।” আমার দ্বারা অমর কবিতা লেখা হবে এমনটি আমি বলতে পারি না। তবে আমি যে সুখে নেই এটি আমি নির্দ্বিধায় স্বীকার করি। তথাপি আমার কলম আমাকে সাহিত্যের প্রাচীন শাখা কবিতার দিগন্তরেখাহীন প্রান্তরে প্রতিনিয়ত টেনে নিয়ে যায়। ফলে কবিতার এই ক্লান্তিলগ্নে আমি কবিতা লেখার দুঃসাহস দেখাতে প্রয়াস পেয়েছি। আত্মকথার সমাপ্তিতে আমি আরবি সাহিত্যিক এজাজ আলী'র “নফহাতুল আরব” গ্রন্থটির ভূমিকার সামান্য অবতারণা করছি- “আমার এই গ্রন্থটি পাঠ করে কেউ যদি নিন্দা করে, আমি ধরে নেবো আমি তার যোগ্য। আর যদি প্রশংসা করে, ধরে নেবো আমার তা প্রাপ্য।" আশা করি গ্রন্থটি পাঠ করে অনুভূতি জানাতে কার্পন্য করবেন না।

কাব্য: বিয়ে

 সংশোধিত ও সংযোজিত সংস্করণ

বিয়ে

হাসান কবীর



প্রকাশক ঃ হাবিব মোশাররফ

 শুচি প্রকাশনী,

 কিশোরগঞ্জ সদর-২৩০০।

 ০১৭১৫-৭২২৮২২

দ্বিতীয় সংস্করণ : ডিসেম্বর-২০২৩

প্রথম সংস্করণ ঃ ডিসেম্বর-২০১৬

প্রথম প্রকাশ ঃ ফেব্রুয়ারি-২০১০

গ্রন্থস্বত্ব ঃ কোহিনূর

প্রচ্ছদ ঃ লেখক

কম্পোজ ঃ আকিঞ্চন, ভৈরব

মূদ্রণ ঃ আকিঞ্চন, ভৈরব

মূল্য ঃ ১২০ টাকা মাত্র।

Biye by Hassan Habir

Published by Habib Musharrof, Shuche Prokashony, Kishoregonj- 2350, 01715-722822, Compused: Akinchan media.

Price : 120 tk Only, USA- $5

 

ভূমিকা

‘বিয়ে’ কাব্যটি ২০১০ সালের একুশে বইমেলায় কবি মুহাম্মাদ জামাল উদ্দীন আরিফ কর্তৃক কলতান প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়। তখন মাত্র ২৭টি কবিতা অত্র কাব্যের অন্তর্গত ছিল। বর্তমান সংস্করণটিতে ২০১৬ সালে আমার নির্বাসিত জীবনের আরো ১৬টি কবিতা নতুন করে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। নতুন করে যোগ করা কবিতাগুলো এতটাই বেদনা বিধুর যে, এগুলো পাঠ করার সময় যে কোন কঠিনমনা পাঠকের বুকের পাঁজরও কষ্টের পরাভবে খুঁটিবিহীন তাবুর মত ধ্বসে পড়বে। যে পাঠক সে কষ্টের কষাঘাত সহ্য করতে ইচ্ছুক নন, তাদের জন্যে এ গ্রন্থ পাঠ না করাই শ্রেয়। তথাপি যারা পাঠ করে বেদনার বারিধারায় অবগাহন করবেন, তাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী এতটা কষ্ট অপারগতাবশত কাগজে তুলে ধরায়। যাক সে কথা, নতুন কবিতাসহ এখন মোট কবিতার সংখ্যা ৪৩ করা হয়েছে। সেই সাথে পুরাতন কবিতাগুলোকেও আমূল সংস্কার করা হয়েছে। ফলে একজন পাঠক আগে প্রকাশিত পঠিত কবিতাগুলো পাঠ করলেও নতুন কবিতার স্বাদ অনুভব করবেন।

গ্রন্থটি পাঠের ক্ষেত্রে পাঠকের কাছে যেন এক ঘেয়েমি ভাব পরিলক্ষিত না হয়, সেজন্যে অত্র গ্রন্থটি ভিন্ন স্বাদের কবিতা দিয়ে বিন্যাস করা হয়েছে। আশা করি অত্র গ্রন্থটি পাঠকের হৃদয় আন্দোলিত করে মনের কোণে ঠাঁই করে নিতে সামর্থ্য হবে।

০৮ মে ২০১৮

কালীপুর, ভৈরব, বাংলাদেশ।


সূচীপত্র

তাকে ঘিরেই কাব্য রচি

মায়ের বিরহ

বিয়ে

দূরে দূরে রয়

তোমাকে তুলে দিলাম দুখের তরীতে

পাইনি বিচার

বাশী ফুলে বরণ

মোদের ভালবাসা

নরকের দরজায়

বউ সেজেছে

বহুরূপী

জাগাও সুখের ঢেউ

উত্তর খুঁজে পাই না

করো না রোদন

স্মৃতি দোলা দেয়

মুক্তির বাণী

প্রাণের মায়া

ভালবাসার ফুল

তোমাকে খুঁজে পাই

ঢাকা পড়ে গেল

প্রেমের মায়াডোরে

তুমিও অপরাধী

দুই নদীর মোহনায়

ঘুম হারিয়ে গেছে

পাগলের সুখ মনে মনে

ভালবাসার গুঞ্জনে

সঙ্গে লয়ে তোমাকে

লাইলী ত্যাগী মজনু

তারার ফুল

ফিরে এলো না

এক সাগর দুঃখ

প্রতিবাদী

জীবের সেবার

জেগে স্বপ্ন দেখে

গত বুধবারে

মা বেহেশতে যায়

তুমিও মিথ্যেবাদী

মোদের এ বসুন্ধরা

ঘুমের ঘরে জ্বালাইও না

অধ্যবসায়

চোখের সামনে

বিদায়ী ক্ষণ

হলাম যাযাবর





তাকে ঘিরেই কাব্য রচি
অভিশপ্ত এ জীবনে আর বাঁচার সাধ নাই,
শুধু তোমার প্রয়োজনেই বেঁচে থাকতে চাই।
ত্যাগ করলাম জগৎ সংসার মায়া মমতা স্নেহ,
রঙিন ঘুড়ি নিয়ে আমার আকাশে উড়ে না আজ কেহ।
ভুলে গেছি আমার মা’র মুখ তার নিঃস্বার্থ ভালোবাসা,
তার স্নেহের পরশে মন জুড়াবো গিয়ে করি না সে আশা।
বহু আগেই অবহেলায় ভুলেছি পিতার আদর,
কবরে তাহার জড়িয়ে আছে দূর্বাঘাসের চাদর।
বুক চিরে হৃদয় উপহার দিতে পারতাম যাদের,
বাধ্য করলো সেই ভাই-বোনেরা ছেড়ে আসতে তাদের।
জগৎ সংসার যারে অর্ধাঙ্গী বলে সে প্রাণের প্রিয়তমা,
বাঁদরামি তার এত বেশি কিছুতেই করতে পারিনি ক্ষমা।
বন্ধু বান্ধব দূরে সরেছে করেছে আমায় একা,
বসন্তের কোকিলেরা আজ স্বপ্নেও দেয় না দেখা।
আমার আকাশে আজ শুধুই তুমি উদীয়মান রবি,
তোমাকেই শুধু ভুলতে পারছি না আর ভুলেছি সবি।
আমার এ রবি যখন তেজোদীপ্ত হবে জানি না সেদিন হায়,
কতো অভিযোগে অভিযুক্ত হবো তার বিচারের কাঠগড়ায়।
তবুও আমি চাই হোক আমার এই রবির পূর্ণ বিকাশ,
আলোয় তোমার ভুবন আলোকিত হোক মনের অভিলাষ।
এ রবি আমার আদরের তনয়া নাম যে শুচি
সব হারিয়ে আজ তাকে ঘিরেই কাব্য গান রচি।
শনিবার, ৩০ এপ্রিলে ২০১৬, বিকাল, রামপুরা, ঢাকা

 

মায়ের বিরহ
কতো দিন হায় দেখিনা মা তোমার মায়া-মুখ,
এ দূর প্রবাসে থেকে মাগো মনে নাইতো সুখ।

ধরার বুকে এ দূর প্রবাসে মাগো আছি তোমায় ছাড়া,
কি যে আগুন মনের ঘরে মাগো স্নেহের আঁচল ছাড়া।
ভোগ বিলাসে থেকেও মাগো মনে বড় দুঃখ।।

তোমার কোল ছেড়ে মাগো দূর প্রবাসে রই,
এত বড় অভাগা আমি দুঃখ কারে কই।
তোমার চোখের আড়াল করে তারা পেল সুখ।।

কী ভুলে বা কী পাপে আমি তোমার চোখের আড়ালে,
কী পাষাণে বুক বেঁধে মা আদরের ধন হারালে।
হাসান কবীর কেঁদে বলে মা ভেঙে যায় বুক।।
মঙ্গলবার, ০৩ মে ২০১৬, রামপুরা, ঢাকা।
 


বিয়ে
সখি!
আজ তোমার বিয়ে
যাবে তোমায় নিয়ে
পালকিতে চড়িয়ে
সারা গাঁ মাতিয়ে।
সইরা তোমায় হলুদ পরিয়ে
দু‘হাত মেহেদীতে রাঙিয়ে
লাল বেনারশি পরিয়ে
দিয়েছে নতুন সাজে সাজিয়ে।
তোমার মনে তাই
খুশির বান ডেকে যায়;
হাঠাৎ-ই মনটা হেসে উঠে
স্বর্গীয় সুখের ভাবনায়।
তোমাকে ঘিরে এত আয়োজন
পরেছ আজ নতুন ভূষণ,
যাবে যখন ওই বাড়িতে
দেখতে তোমায় আসবে শতজন।
সুর উঠেছে অই দেখ
বর এলো গো বর এলো,
তারে সুখ দিও সখি
যে তোমাকে পেল ॥


 
দূরে দূরে রয়
যতন করলে বনের পাখি
পোষ মেনে রয়,
পালকের শিখানো বুলি
বারে বারে কয় ॥
প্রিয়া নামের পাখিটাকে
কত যতন করলাম হায়রে,
তবুও সে আমায় ভুলে
দূরে দূরে রয় ॥
খাওয়াইয়াছি হাতে তুলি
শিখিয়ে দিলাম আমার বুলি,
আমার বুলি ভুলে গিয়ে
পরের বুলি কয় ॥
 


তোমাকে তুলে দিলাম দুখের তরীতে
সংসার সমুদ্রে জীবন তরী ভাসছে দিবানিশি,
দুঃখ-কষ্টের অশ্রু হবে, মুখে ফুটবে সুখের হাসি।
এক মুদ্রার এপিট ওপিঠ বা পাখির দুই ডানা,
দুঃখ সুখ পাশাপাশি বহে জগৎ জনের জানা।
সুখটা কারো বেশিই থাকে কারো রয় দুঃখ,
বারো মাস দুঃখ আমার নেই একটু সুখ।
জ্ঞান-বুদ্ধি লোপ পেয়েছে পালিয়েছে ভালোবাসা,
বন্ধু-স্বজন সরে গেছে দেখে হতাশা দুর্দশা।
বিষাদ-ভরা জীবন থেকে পেতে মিছে মুক্তির স্বাদ,
গভীরভাবে অনুভব করতে কষ্টদের নিনাদ,
স্বেচ্ছা নির্বাসিত হলাম মায়া মমতা সব ভুলে,
সংসার ধর্ম, প্রিয়ার সঙ্গ ত্যাগিলাম সমূলে।
একাকীত্বের বেদনায় ক্ষত-বিক্ষত হবে নির্বাসিত জীবন,
মূহুর্তে মূহুর্তে মরণ যন্ত্রণা হবে এইতো তাহার ধরণ।
কিন্তু আমার নির্বাসিত জীবনে এ কথা পুরাই বেহুদা,
একাকীত্ব আমার মধুময় করল তোমার প্রেমসুধা।
কষ্টের বদলে সুখের সাগরে করলাম নিত্য অবগাহন,
অকুল সাগরে সাঁতার ছেড়ে ময়ূরপঙ্খী করলাম বাহন।
চাঁদ হয়ে আমায় জোছনা দিলে সূর্য হয়ে দিলে কিরণ,
আমি পথিক সে সব নিতে একবারও করিনি বারণ।
বাতাস হয়ে নিঃশ্বাস দিলে, মেঘ হয়ে দিলে বৃষ্টি,
হৃদয়ের কালিমা ধুয়ে দিয়ে করলে প্রেমের সৃষ্টি।
প্রেমের দোলায় দুলছি আমি দুলছে তোমার মন,
কষ্টের আঁধার দূরীভূত হয়ে আলোকিত ভূবন।
বেহিসেবে দিচ্ছ ঢের পাচ্ছি টের প্রেম-ভালোবাসা,
পেয়ে তা হতাশার সাগরে পেলাম বাঁচার আশা।
স্বপ্ন দেখি স্বপ্ন দেখাই হয় স্বপ্ন বিনিময়,
আমার মনে যে স্বপ্ন তোমার মনেও নিশ্চয়।
স্বপ্ন মাঝে বিভোর হয়ে ভুলি আমি যে যাযাবর,
ভুলে যাই যাযাবরদের হয় নাতো বাঁধা ঘর।
গৃহত্যাগী মানুষ আমি নির্বাসনে এসে,
ক্রমে ক্রমে তোমার প্রেমে গেলাম যে ফেঁসে।
সে সময়ে ফেলে আসা ঘর দেয় যে হাতছানি,
সে কথা জানলে নিশ্চয় ঝরবেই চোখে পানি।
সুপ্ত মায়া জেগে উঠে মনে ফিরবো বলে ঘরে,
আমাদের প্রেম দেবে যাবে চোরাবালির চরে।
প্রস্ফুটিত গোলাপ তুমি হাসোজ্জ্বল মুখে,
মায়ার কাননে তুমি হাসতেছিলে সুখে।
সেখান থেকে ছিঁড়ে এনে তোমায় রাখলাম ফুলদানিতে,
ফেরার পথে তোমায় তুলে দিয়ে এলাম দুখের তরীতে।।
০১ জুলাই ২০১৬, শুক্রবার, রামপুরা, ঢাকা।

 

পাইনি বিচার
মোরে মনে লেগেছে বলে
ঘুরেছ মোর অনু,
হাত ধরে টেনেছ কাছে
আপন করেছ তনু।
বন্ধু
মোর সনে করে প্রীতি,
কাছে টেনে
মোর সম্ভ্রম করেছ হৃতি।
শীকরবাহী বায়ুতে যেমন
গাছ হয় শক্ত,
বন্ধু পায় আনন্দ! মোর টুটা হৃদ হতে
যখন স্রবণ হয় রক্ত।
হৃদয়ের অর্তি নিয়ে করি
পর্ণের কুটিরে বাস,
শবের মত থাকি বলে
করিস উপহাস।
তোকে ভালবেসে আমি
হতে চেয়েছি তোর দ্বার,
অশ্রুতে ভিজে উপাধান
ভেঙ্গে আশা আমার।
তোমার আকিঞ্চন করে পূরণ
তুমি পেলে পার,
আমি অকিঞ্চন বলে
পাইনি বিচার ॥
 


বাশী ফুলে বরণ
চৈতালীর ছিল বিয়ে
তোমার আমার ইয়ে,
আমায় ফেলে একাই
দাওয়াত খেলে গিয়ে।
বরযাত্রী আর পক্ষ পাত্রী
লোকে বাড়ি জনারণ্য,
বরের মুখে মুচকি হাসি,
কনের মুখে লাবণ্য।
চৈতালীকে দেখে তুমি
সাজতে চাইলে কনে,
আমাকে বর সাজিয়ে
হারাতে সুখের বনে।
বরের মালা ছিঁড়ে
আনলে কিছু ফুল,
তাজা ফুল না তুলে
করলে মহা-ভুল।
ফুল দিলে কি হয়
মোরে জিজ্ঞাসিয়া কারণ,
বাশী ফুল দিয়েই
করলে আমায় বরণ ॥


 
মোদের ভালবাসা
আজ এ মধু পূর্ণিমার রাতে
চোখ যায়নি ঘুমের ভবেতে।
ছাদে বসে চাঁদের সনে আলাপ
আলাপ নয় প্রেমিকের প্রলাপ।
চাঁদটা বলে তুমি নাকি তার চেয়েও সুন্দর
তোমার আলোয় আলোকিত হবে আমার ঘর।
তোমার রূপানলে কভু লাগে না গ্রহণ,
চাঁদের জোছনা সেতো ক্ষনিকের লগন।
চাঁদের কোন কণ্ঠ নেই, নেই কানে দুল
তোমার কন্ঠে মণিহার নাকে পার্সি ফুল।
চাঁদের হাত নেই তোমার মতন
যে হাতে কাছে টেনে করেছ আপন।
চাঁদেরতো মুখও নেই কহে না কথা
তোমার মিষ্ট বচনে দূর হয় ব্যথা।
চাঁদের প্রাণ নেই নেই কোন আশা
বিয়েতেই পূর্ণতা পায় ভালবাসা ॥
 


নরকের দরজায়
জানি না অবলাদের কিসের এত সাজ,
ভঙ্গ করা অঙ্গীকার ওদের নিত্য কাজ।
অন্তরীক্ষের মতই এরা পাকা বর্ণচোরা,
বপ-কাটিং অলক কেটে হয় ত্যাজী-ঘোড়া।
অতিরঞ্জিত কালি মেখে চোখ করেছে ধেনুর,
নীড়ে ফিরে কেঁদে মরে নজর কাড়েনি কারুর।
হিল জুতো পরে রাস্তায় হাঁটে যে ঠক্ ঠক্,
পুরুষ দেখলে শুধু শুধু করে বক্ বক্।
রক্তরাঙা জামা পরে, দৃষ্টিতে তনু ভেদ হয়,
বার হাত কাপড় পরেও জঠর খালি রয়।
বুকের ওড়না থাকে গলায়, শরমে মরি,
ইচ্ছে করে ধাক্কা মেরে বলে, “আই এম সরি”।
মাঝ কপালে তিলক আঁকে হিন্দুয়ানি রেওয়াজ,
কুন্তল ছেড়ে চৈতী হাওয়ায় সাজে আস্ত পেঁয়াজ।
শর্ট গেঞ্জি চিপা প্যান্ট বাতাসে ভাসে চুল,
তাল গাছ ভেবে আমি শুধুই করি ভুল।
স্বর্গ ভেবে বেল চাঁপবে যত নাইট ক্লাবের দরজায়,
ইসলাম কয় কড়া নাড়ছে এরা নরকের দরজায় ॥


 
বউ সেজেছে
সখি বউ সেজেছে বউ
আমার জন্য নয়,
এ দুঃখ বল আমার
এ পরাণে কি সয়?
হাতে রুমাল মাথে টোপর
আসবে যবে বর,
পালকি চড়ে সখি তখন
যাবে তাহার ঘর।
আমার বাসর ভেঙ্গে দিয়ে
গড়বে তার বাসর,
জীবন আমার সাঙ্গ হল
ভাঙ্গলো স্বপ্ন আসর।
সোনার হরিণ কাছে পেয়েও
করলি না যতন,
বুঝবে যবে টুটবে স্বপন
হারালে সে রতন।
এক দরিয়ার দুইটি ধারা
বহে যে অবিরল,
মন মাঝি তুই আমায় নিয়ে
অচিন দেশে চল ॥


 
বহুরূপী 
সারা জীবন বাদরামি করে বুড়ো কালে এসে,
মক্কার ঘর যেয়ারত করে মসজিদে বসে,
ইমাম সা’বের দোষ ধর, আর মুয়াজ্জিনের ভুল?
জেনো তোমার হজ্জ, এবাদত হয়নিতো একচুল।
সুদের টাকায় ব্যবসা কর, অফিস পাড়ায় ঘুষ,
তিনদিনের তাবলীগ করে ধর আলেমের দোষ,
দুইটা বাংলা হাদীস পড়ে নিজেকে ভাব মুহাদ্দিস,
নবীর ওয়ারিশ দেখলে তোমার কেনই লাগে বিষ?
দাড়ি জুব্বা পড়লেই যদি মস্ত হুজুর হতো,
এত বড় হুজুর দেখি নাতো রবীন্দ্রের মত!
সব কথার আসল কথা লেবাস শুধু নয়,
লেবাসের সাথে যদি চরিত্রের বদল হয়;
তবেই তুমি কামিয়াব ধন্য তোমার জীবন,
নয় বেশ ধরার চেয়ে ভালো তোমার মরণ।
সত্যিকারের ভালো মানুষগুলো দাড়ি রেখে পড়ে টুপি,
অসতেরা অকাজ ঢাকতে বেশ ধরে হয় বহুরূপী।
২২ জানুয়ারি ২০১৬, শনিবার, কালীপুর, ভৈরব, কিশোরগঞ্জ।
 


জাগাও সুখের ঢেউ
জল বিনে হয়না সাগর বিনে বাতাসে ঢেউ,
তুই ছাড়া মনের বেদন বুঝবে নাতো কেউ ॥

বন-জঙ্গলে পশু ও পাখি নদীর জলে মিন,
জোড়ায় জোড়ায় থাকে বসে আমি তোমায় হীন।
বারে বারে উছলে উঠে বুকে বেদনার ঢেউ ॥

আকাশের রঙ গায়ে মেখে সাগর হয় নীল,
তোমার নামের মালা গাঁথে সদা আমার দিল।
এসে আমার কাছে প্রিয় জাগাও সুখের ঢেউ ॥
০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬ খ্রি., কালীপুর, ভৈরব।
 


উত্তর খুঁজে পাই না
কেন তুমি এত কাছে এসেছিলে?
কেন তুমি এত ভালবেসেছিলে?
কেন তুমি এত আপন হয়েছিলে?
কেন তুমি হৃদয় কেড়ে নিয়েছিলে?
তোমাকে হারিয়ে এ সবই ভাবনা।
তবুও কোন উত্তর খুঁজে পাই না ॥
কেন তুমি দুচোখে স্বপন দিয়েছিলে?
কেন তুমি প্রেমের গান শুনিয়েছিলে?
কেন তুমি এ হাত দুটো ধরেছিলে?
কেন ছেড়ে যাবে না বলেছিলে?
এসব ছাড়া মাথায় কিছু রাখি না
তবুও কোন উত্তর খুঁজে পাই না ॥
কেন  তুমি আমার নাম বুকে এঁকেছিলে?
কেন তুমি দুটি নাম জোড়ায় লিখেছিলে?
কেন তুমি মোরে ফুলে বরণ করেছিলে?
কেন আমায় ফেলে দূরে সরে গেলে?
এমন হাজার প্রশ্ন ছাড়া কিছু ভাবি না।
তবুও আমি কোন উত্তর খুঁজে পাই না ॥



 
করো না রোদন
বড় শংসয়ে আছি আমি পড়ে
জানি না কভু পাব কি না তোমাকে।
আমার এ হৃদয়ে তাই শূন্যতা
তোমাকে হারালে রবে বিষন্নতা।
এই কথা ভেবে আজ বার বার
অবিরাম ঝরে অশ্রু আমার।
জানি না কেমনে তুমি কোথায় আছ
আমাকে রেখেছ মনে, না ভুলে গেছ।
দূরে গেলে যেয়ো মিনতি রেখো
আমার স্মৃতি ভুলে সুখে থেকো।
কামনা তোমার তরে আমার মতন
দুঃখকে সাথী করে করো না রোদন।



 
স্মৃতি দোলা দেয়
তখন আমি ছোট্ট ছিলাম
প্রেম কি না বুঝিতাম,
তুমি আমি পাশাপাশি
ঘুরে বেড়াতাম।
পুতুল খেলায় বর সাজিয়া
তোমায় আমি করতাম বিয়া,
দু’জন মিলে বাসর ঘরে
গল্প করিতাম।
গল্প শুনে হাসতে তুমি
অপলক নয়নে দেখতাম আমি,
মুক্তো ঝরা সে হাসিতে
মাথার চুলে তিমির দেখতাম।
খেলতে খেলতে হঠাৎ যখন
বাড়ির কথা পড়তো মনে,
খেলার বাসর শূন্য ফেলে
বাড়ির পানে ছুটতাম।
সব কিছু আজ স্মৃতি হয়ে
দোলা দেয় মনের ঘরে,
কাছাকাছি এলে এখন
অজানায় হারিয়ে যেতাম ॥


 
মুক্তির বাণী
চারপাশ ছেয়ে গেছে নোংরামিতে,
এখনো রয়েছে মানুষ গোঁড়ামিতে।
যত সব অন্ধ-বিশ্বাস ও কুসংস্কারে,
ভর করে আছে মানুষ ভব-সংসারে।
এত আলো তবু পায়না আলোর ছোঁয়া,
ওদের ভাগ্যাকাশে উড়ছে কালো ধোঁয়া।
নির্যাতন আর নিপীড়ন চলছে অবিরত,
এসবে নিরীহ মানুষ করছে জীবন গত।
ভালো মানুষের মুখোশ পরে করছে ধোঁকাবাজি,
অন্যায়ের কাছে নত হতে হচ্ছে মানুষ রাজি।
ধর্মের জন্য নেই দরদ অধর্মেই ঝোঁক,
সারা জনম কষ্টে কাটে দূর হয় না দু’খ।
পথের নেশায় ঘুরেও পায় না সঠিক পথ,
আলো ভেবে আলেয়ার পিছে ঘুরছে অবিরত।
জুলুম-নির্যাতনের হয় না কোন বিচার,
নারী, শিশু এদেশেতে হচ্ছে সদাই পাচার। 
কে দেখাবে পথ ওদেরে মুক্তি কে বা দিবে,
উত্তাল সমুদ্রে আজ মাস্তুল কে ধরবে।
তোমার আশায় হে জোয়ান সবাই পথ চেয়ে,
মুক্তির বাণী শোনাও তুমি ওদের কাছে যেয়ে ॥



 
প্রাণের মায়া
যে বয়েস পাঠশালা নেই নেইতো কোন কাজ,
ইচ্ছে মত যেথা’ সেথা’ করতাম তখন রাজ।
সে সময়ে বন জঙ্গলে পাখির ছানার খোঁজে,
দস্যু এ মন হানা দিত মায়া মমতা না বুঝে।
শালিক দোয়েল টিয়া ময়না আরো কত কী,
সবার নাম নেইতো মনে তাতে বা দোষ কী।
ধরে এনেছি পাখির ছানা ডিম এসেছি ফেলে,
কয়দিন পর গেলে যেন পাখির ছানা মেলে।
সব পাখি ছানা ফুটাতো ডিমে দিয়ে তা,
টুনটুনি পালিয়ে যেত ফুটাতো না ছা।
বিজ্ঞজনে জিজ্ঞাসিলে এই কর্মের ভেদ,
জবাব শুনে কখনো কলজে হতো ছেদ।
শিকারির ঘ্রাণ পেলে সদা টুনটুনির দল,
ডিমের মায়া ছেড়ে পালায় হারিয়ে মনোবল।
বৃহস্পিতবার, ১৯ মে ২০১৬ খ্রি., পূর্ব গাইলকাটা, কুলিয়ারচর, কিশোরগঞ্জ।
 


ভালবাসার ফুল
জবার মত পাঁচটি পাপড়িতে নয়
গোলাপের চৌদ্দটি পাপড়িতেও নয়
হাজার কোটি পাপড়িতে গড়া একটি ফুল,
তার নাম ভালবাসা; চিনতে করো না ভুল।
এতো কোন গোলাপ নয় নয়কো বকুল,
এর সাথে কোন ফুলের হয় নাকো তুল।
এ কোন পার্ক বা আঙ্গিনার শোভা নয়,
এ হলো মনের শোভা, জীবনের জয়।
এর শোভা আসে সুদূর গগন থেকে
ছুটে আসে ভ্রমরেরা সুধা নিতে বুকে।
সুবাস ছড়িয়ে পড়ে মিশে পবনে,
প্রীতির বন্ধন দৃঢ় হয় প্রতি লগনে।
চারদিক আলোকিত তার আলোতে,
সদাই স্মরি তারে সায়াহ্ন-প্রভাতে।
ভ্রমর চলে যায় সুধা পান করে উড়ে,
অমীয় সুধা ছড়িয়ে দেয় সে বিশ্ব জুড়ে।
সে সুধার ফুল ফুটে হৃদয়ের ঘরে,
সুবাস ছড়িয়ে পড়ে নগরে-বন্দরে।
দুনিয়াতে কারোর সাথে এ ফুলের নেই কোন তুল,
হাজার ফুলের সমন্বয়ে গড়া ভালবাসার ফুল ॥
 

তোমাকে খুঁজে পাই
প্রিয়তমা!
তুমি যার ভয়ে লেখা নাম আমার
দেখেছি আমি
কেটে দিলে নিজ হাতে লেখা নাম তোমার।
যোগের পরের জায়গাটা শূন্য
চাক্ষুষ দেখেছি ডায়রিতে,
তোমার হৃদয় ভরা পুণ্য
রেখেছো সেথায় মোরে পিরীতে।
শুধু রাক্ষসের ভয়ে
তোমার নামের পাশে লিখলে না আমার নাম,
গেছ নীরবে সয়ে
চোখের জলে রেখে গেছ প্রেমের প্রমাণ।
সেই রাক্ষসের ছায়ায় আজ
দেই না আমি তোমার হস্তলিপি,
ভেবে পাই লাজ
কেমনে দেবো তোমার মুছে ফেলা কপি।
বার বার শুধু
আঁকিবুঁকিপূর্ণ লেখায়
করে বুক ধু-ধু
মনের অজান্তে তোমাকে খুঁজে পাই ॥



 
ঢাকা পড়ে গেল
এথা আমি আছি জেগে
তোমার থেকে অনেক দূরে,
চাঁদের আলোয় বসে বসে
গান গাই সুরে সুরে।
তুমি এসে ছন্দ তুলো
মোর গানে তুমি দোলো।
তুমি জেগে থেকো সেথায়
ঘুমুতে যেয়ো না,
পবনে মিশে গেলেতো
শুনতে পাবে না।
অনুরাগে সিক্ত তুমি বলবে আবার বল
ক্লান্ত আমি বলবো তোমায় ঘরে তবে চল।
আমার এ গান তুমি নাই বা যদি শুনলে
গান গেয়ে আমার তবে লাভ কি হলো বল,
ভেবে দেখো যে গান আমার
তোমার অশ্রাব্য রয়ে গেল
জলদি শুনবে চলো
রাতের আঁধারে ঢাকা পড়ে গেল ॥
 


প্রেমের মায়াডোরে
প্রেম যে মধু, প্রেম যে যাদু, প্রেম যে মহা মায়াময়,
প্রেম ছাড়া কে বাঁচে হায়, প্রেমিক ভরা ভূবনময়।

চাঁদের সনে নদীর প্রেমে জোয়ার ভাটা হয়,
মানব চক্ষু দেখে জোয়ার প্রেম গোপনে রয়।
কোটি মাইল দূরে থেকে প্রেম সোহাগী আদর লয়।।

ধরার প্রেমে চাঁদ ও তারা আকাশেতে হয় উদয়,
অকৃত্রিম তার প্রেমের জ্যোতি ঢেলে দেয় বিশ্বময়।
প্রেম সোহাগ তার না পেলে আঁধার রবে ধরাময়।।

কত মাইল দূরে বল, জগতের কোন কিনারায়,
তোমার প্রেম ছাড়া কি গো প্রেমিক এ মন শান্তি পায়।
মায়াডোরে আমায় দয়াল বেঁধে রাখো জীবনময়।।
শনিবার, ০১ মে ২০১৬, রামপুরা, ঢাকা



 
তুমিও অপরাধী
সত্যিই ভালবেসেছি বলে
ধরেছি তোমার হাত,
ভুল বুঝে আমায় তুমি
করলে কত আঘাত।
ভালবাসি বলে আমি
তোমার দুঃখে কাঁদি,
সে কারণে তুমি আমাকে
করলে অপরাধী।
তোমার প্রেমে পড়েছি বলে
তোমার অনুকরণ করি,
আমাকে ফেলে অন্যের সাথে
ভাসাও তবু প্রেমের তরী।
আমাকে দেখে রাগ করে
যাও তুমি চটি,
নিরাশ হয়ে আমি শুধু
আসি পিছু হটি।
কারো জন্যে অশ্রু ঝরালে
যদি হতে হয় অপরাধী,
আমার জন্যে অশ্রু ঝরিয়ে
আজ তুমিও অপরাধী ॥

 
দুই নদীর মোহনায়
মনের আর্তি শুনার মত কর্ণ তোমার নেই বলে,
সত্য কথা ছলনা ভেবে মুখ ফিরিয়ে চলেই গেলে।
সত্য ও মিথ্যা বুঝার মত হৃদয় তোমার নেই তাই,
প্রাকৃতিক নিয়মে তোমার সনে যা ইচ্ছে ঘটছে তাই।
একাকী নিভৃতে ভেবে যেদিন আমার কথা বুঝবে,
পরশ পাথর লভিতে সেদিন আমাকেই খুঁজবে।
হয়তো সেদিন আমাকে আর পাবে না খুঁজে ধরায়,
বেঁচেও হয়তো মরে যাবো পুড়ে পুড়ে প্রেম খরায়।
হয়তো দেখবে এলোকেশে ধূলিমলিন এই বদনখানি,
পড়ে আছে রাস্তায়, ময়লা ছাড়াবে না সাত সাগরের পানি।
হয়তো তখন মনে মায়া হবে, অশ্রু ঝরবে নয়নে,
সময়ে সোহাগ না বিলিয়ে অসময়ে কী লাভ ক্রন্দনে।
হয়তো ভাববে তোমার সনে ছিল আমার মনের মিল,
দূর থেকে তোমার জন্যে ছটফট করেছে আমার দিল।
হয়তো তোমার সাথে আমার গড়ে উঠতে পারতো বাসর,
সাদা ও কালোর ফ্রেম ভেঙে রঙিন ছবিতে ভরতো যে ঘর।
ছায়া হয়ে থাকতে পারতে আমার পাশে দিলরুবা,
আমার গৃহেই তোমার ফুল ছড়াতে পারতো শুভা।
শুধু তোমার অবুঝ মনের অবুঝ খেয়ালীপনায়,
দুটি হৃদয় হাবুডুবু খায় দুই নদীর মোহনায়।
শনিবার, ৩০ এপ্রিল ২০১৬, হাতিরঝিল, ঢাকা
 


ঘুম হারিয়ে গেছে
ঘুমগুলো কোথায় গেছে হারিয়ে
দু’চোখে দোলা দিয়ে গেছে পালিয়ে।
মিলাতে পারি না দু’টি চোখের পাতা,
বার বার মনে পড়ে তোমার কথা।
চোখ যেন জেগেই আজ দেখে স্বপন,
মনে যেন হলো প্রেমের বীজ বপন।
চোখের সীমানা জুড়ে তব ছবি,
প্রেমের আলোয় যেন হাসে রবি।
চোখের আড়াল আর বুকের ঘরে,
প্রেমের গান ভেসে যায় সুরে সুরে।
তোমার সুবাস ভাসে দখিনা পবনে,
ঘুম চোখে এলে দেখি তোমায় স্বপনে ॥
 


পাগলের সুখ মনে মনে
সংসার বিরাগী আমি ঘর সংসার ছেড়ে
নিত্যই এসে বসে থাকি হাতিরঝিলের ধারে।
ঝিলের পাড়ে বসা এখন নিত্য কাজ,
বসে বসে দেখি কে কিভাবে করে রাজ।
এক অবলা রোজ বিকেলে ঝিলের পাড়ে এসে,
একা একাই গান গায়, একা একাই সে হাসে।
কখনো কৃষ্ণচূড়া খোঁপায় রাখে গুঁজে,
জানি নাতো মনে মনে সে কাহারে খুঁজে।
পাগলের সুখ মনে মনে বন্ধু আমার বলে,
বিরহের মাঝে পাই সুখ এ কথা মনে হলে।
মেয়েটিকে দেখে এখন এই কথাটি ভাবি,
এ কথাটি আজকে মনে প্রবোধ দেবার চাবি।
দূরে বসে দেখি আমি সে মেয়েটির রূপ,
হাসতে হাসতে হঠাৎ কেন হয় চুপ।
আনাগোনা কমতে থাকে বাড়ে নীরবতা,
কখনো বা কারোর সাথে হেসে বলে কথা।
গাড়ি ঘোড়া কমে আসে আঁধারে ডুবে চারদিক,
ঘরে ফিরতে হবে আমায় করি যখন ঠিক-
সে অবসরে মেয়েটি কোথায় হারিয়ে যায়,
পাগল নাকি অন্যকিছু পড়ি সে ভাবনায়।
০৬ মে ২০১৬, হাতিরঝিল, ঢাকা।



 
ভালবাসার গুঞ্জনে
বহুদিন পর আবার
দেখা হলো দুইজনার
দু’জনে কানে কানে
কইবো গানে গানে।
আকাশ ভরা জোছনা
উজ্জ্বলতর রৌশনা
চাঁদটা হেসে বলে
তোমরা এক হলে।
ভালবাসার গুঞ্জনে
হাসি মোরা ক্ষণে ক্ষণে
হাসিগুলো মিলিয়ে যায়
দূর বহুদূর পবনে।
হৃদয়ের বন্ধনে
গভীর প্রেম-বনে
মুখোমুখি বসেছি
আজ ফের দু’জনে।
কথা আর গানের মাঝে
হর্ষ চিত্তে লয়ে,
রাতের শেষে কখন যে
ভোর গেছে হয়ে ॥


 
সঙ্গে লয়ে তোমাকে...
বাতাসে শ্বাস টানছি
তোমার গন্ধ দোলা দিচ্ছে নাকে
মনে হয় এই বুঝি
জড়িয়ে ধরলে তুমি আমাকে ॥
আদরে আদরে ভরিয়ে দিলে
স্পর্শে জাগালে শিহরণ,
ভরতে মধুর হাড়ি
সুধা পান করতে দিও আমাকে ॥
বাতাসে দিলাম ছেড়ে
আমার ছায়া-ছবি,
পেয়ে যাবে তুমি তা
জাগার আগে রবি।
দুই প্রান্তে দাঁড়িয়ে
প্রেমের গান গাইব।
একাকী নইগো আমি
সঙ্গে লয়ে তোমাকে ॥
 

লাইলী ত্যাগী মজনু
অযত্নে অবহেলায় পথে ফেলে আসলাম যারে,
ভুল ভাঙ্গিলে পথে পথে খুঁজে আর কি পাবো তারে।।

ভাগ্যগুণে জোড়া মানিক আমার এসেছিল হাতে,
স্বভাব দোষে ফেলে এলাম রাখলাম নাতো সাথে।
কোথায় গেলে তাহাদের পাবো শুধাই বল কারে।।

রতনে যে রতন চেনে, আমিতো রতন নই,
পেয়েও হারালাম রতন দুঃখ কারে কই।
জ্বালায় জ্বালায় পুড়ে এ মন দেখাই বল কারে।।

কষ্ট তদবীর সাধনা করে মানিক পেলে সবে,
যতন করে আগলে রাখে আমিই অধম ভবে।
লাইলী ত্যাগী মজনু আমি দুঃখ বলবো কারে।।
মঙ্গলবার, ০৩ মে ২০১৬খ্রি, রামপুরা, ঢাকা
 


তারার ফুল
ঘন তিমিরে যখন ডুবে যায় ধরনী,
রাতের পোশাকে দেহ ঢাকা দেয় তখনি।
ঘুম-ঘরে বেহুঁশে পড়ে থাকে যত প্রাণী,
মাটিতে দেহ লুটিয়ে দেয় দূরিতে ক্লান্তি।
ঠিক তখনও জেগে থাকি একাকী,
দূরে বহুদূরে জ্বলে কিছু জোনাকী।
নীরবতা ভঙ্গ করে ঝিঁ ঝিঁ পোকার ডাক,
কর্ণে কভু আঘাত হানে ডাহুকের হাঁক।
চারদিক আঁধারে আবৃত কলরবহীন,
হৃদয় তারে বেজে উঠে বেদনার বীন।
চাঁদটা আজ আমায় দেয় না পাহারা,
গগনে মিটিমিটি জ্বলছে দু’টি তারা।
আকাশ ক্রমে কালো রঙে ঢাকছে,
হৃদয়টা অসহায়ত্বে ভুগছে।
একা, এ বিজন রাতে শুধুই আমি একা,
চারপাশের কোন কিছুই যায় না দেখা।
ভয়ে বুকের ভেতরটা কাঁপছে দুরু দুরু,
দেহটা মোর দাঁড়িয়ে আছে যেন এক তরু।
যখন অসহায় ভয়ে ভাবছি নেই কোন কুল,
তখন দেখি জেগে আছে মোর সাথে তারার ফুল ॥



 
ফিরে এলো না
লোকে বলে কোকিল নাকি 
পোষ মানে না,
খাঁচা ভেঙ্গে গেলে পাখি
ফিরে আসে না ॥
যে কোকিলটা খাঁচায় ভরে
কাছে রাখলাম যতন করে,
খাঁচা ভেঙ্গে সেই যে গেল
সেতো আর ফিরে এলো না ॥
মনের মানুষ পালিয়ে গেছে
স্নেহের বাঁধন কেটে দিয়ে
কোকিল গেল সেও গেল
আরতো ফিরে এলো না ॥
 


এক সাগর দুঃখ
এক সাগর দুঃখ আমার বুকের ভেতর রয়,
হাসিমুখে তবু সবার সাথেই সুখের অভিনয় ॥

বুক চিরে মনের বেদন দেখানো যায় না,
কিছু ব্যথা ব্যক্ত করতে শব্দ খুঁজে পাই না।
বুকের ভেতর অনল চেপে করছি অভিনয় ॥

বুকের ভেতর ব্যথার অনল জ্বলছে দিবানিশি,
বসন্তের কোকিল সব উড়ে গেছে কষ্ট রাশি রাশি।
হৃদয় উজাড়ি সোহাগ দিয়েও কেন এমন হয় ॥

কষ্টে কষ্টে তরী নষ্ট উঁপচে উঠছে পানি,
আরতো বেশি দেরি নাই ডুববে তরীখানি।
নিদানকালে সঙ্গীতো নেই কী করেছি জীবনময় ॥
শনিবার, ৩০ এপ্রিল ২০১৬, টিভি রোড, রামপুরা, ঢাকা
 


প্রতিবাদী
আলস্য জড়তা আমায় ঘিরে
আমায় ফেলে ঘুমের বাসরে 
বিবেকের উপর পর্দা ঢেলে
নাচে রে থৈ থৈ, করে কোলাহল।
শয্যা ছেড়ে আমি অবাক
ঘড়ি দেখে চেয়ে হই নির্বাক।
দেখি ফিরে আসলে চেতন
মাথাটা ভার দূর্বল মন।
পড়ে মহা-কালের কবলে
ছেয়েছে দেহ বিষ-ছোবলে।
পশ্চাতে চলে বড় গাঁধার
দু‘চোখে শুধু দেখি আঁধার।
শুয়েছি আজ কুঠার লয়ে হাতে
ঘুম হতে তাই জেগে গেছি প্রাতে
পেছন ছেড়ে আজ বড় গাঁধার
শিক্ষা নিলাম প্রতিবাদী হবার ॥
 


জীবের সেবা
পড়ে আছিস কোথায় তোরা জড়োসড়ো হয়ে,
প্রতিভা করিস নে নাশ নিন্দুকদের ভয়ে।
কিছুই পারে না যে সে-ই তো নিন্দা করে,
তুই কিছু হয়ে যাস কি সে ভয়ে মরে।
নিন্দুকের ভয় তুচ্ছ করি পাখির মত উড়ে,
নিজেকে তুই মেলে ধর বিশাল এ বিশ্বজুড়ে।
সুপ্ত মেধা জাগ্রত কর শুভ সৃষ্টিতে,
সৃষ্টি জীবে প্রশান্তি দে সুখের বৃষ্টিতে।
মন-প্রাণ উজাড় করে কর জীবের সেবা,
জীব-হিতে কাজ না করে স্রষ্টা পেয়েছে কে বা?
যার যে প্রতিভা আছে করে হাতিয়ার,
ময়দানে নেমে পড় জীবের সেবার ॥
২৫ জানুয়ারি ২০১৬, সোমবার, কালীপুর, ভৈরব, কিশোরগঞ্জ।
 

জেগে স্বপ্ন দেখে
এখন আর শুনতে পাই না
তোর মুখের বুলি,
তোর সব স্মৃতিগুলি আমি
যতনে রেখেছি তুলি।
দিনের শেষে রাতে যখন
করি শয়ন,
জেগে জেগে স্বপ্ন দেখে
আমার  দু’ নয়ন ॥
ঘুম আসে না আজ আর
চোখের পাতায়,
তোমাকে সে পেয়ে পেয়ে
আবারও হারায়।
দেহে নেই আজ আমার
সুখের কাঁপন,
জেগে জেগে স্বপ্ন দেখে
আমার  দু’ নয়ন ॥
আমার শরীরে আজ
নীলের ভূষণ,
তোমাকে হারিয়ে তাকে
করেছি আপন।
জেগে জেগে স্বপ্ন দেখে
আমার  দু’ নয়ন ॥
 


গত বুধবার
গত বুধবারে;
আমারই চোখের সামনে ছিলে তুমি,
আজ এ বুধবারে
তুমি আমার মনে শুধু স্মৃতির মমি ॥
গত বুধবারে;
আমারই পাশে শুয়েছিলে তুমি,
আজ এ বুধবারে
আমার বিছানা শূন্য মরুভূমি ॥
গত বুধবারে;
সুখের স্বপন বুনেছিলে তুমি,
আজ এ বুধবারে
ঘুমের ঘরে আমায় যেয়ো চুমি ॥
গত বুধবারে;
বুকে ছিল তাজা ফুলের সৌরভ,
আজ এ বুধবারে
পাঁজর ভাঙ্গে কষ্টের পরাভব।
গত বুধবারে
বুকে ছিল তোমাকে পাবার গৌরব।
আজ এ বুধবারে
থেমে গেছে সব আনন্দ-কলরব।
তবু জেনে রেখো স্বপনে আমি
চিরদিন তোমায় যাবো চুমি ॥


 
মা বেহেশতে যায়
যে মা তোমায় দশ মাস দশদিন 
রেখেছিল জঠরে,
সে মা আজকে চলে গেল
তোমায় রেখে কবরে।
কত কষ্ট করেছেন মায়ে
তোমায় ধরে উদরে,
দিনে দিনে তোমায় তিনি
বড় করেছেন আদরে।
মাতম করো না তুমি 
মায়ের লাগিয়া,
নামাজ পড় দোয়া কর
মনোযোগ দিয়া।
নামাজান্তে কেঁদে বল
ওগো মাওলা রব আমার
মাকে তুমি সুখে রেখো
দিদার যেন পায় তোমার।
আমি প্রভু গোনাহগার
সেজদা দিলাম তোমার পায়,
আমার মা যেন বেহিসাবে
জান্নাতুল ফেরদৌসে যায় ॥
 


তুমিও মিথ্যেবাদী
তুমি আমার রশিকতাটুকুও বুঝনি;
তাইতো আমায় খেতাব দিলে মিথ্যেবাদী।
এলো না ঘোড়ায় চড়ে পালকি নিয়ে রাজপুত্র
তবুও তোমার কার সাথে নাকি হয়েছে শাদী।
ছিল না কি গো ভাগ্নে হয়ে খালার বিয়ের 
দাওয়াত খেয়ে ফূর্তি করার অধিকার,
কোন সে ডাকাত ভুলিয়ে দিলো
কোমল হৃদ আমার খালার।
খালা তুমি মিথ্যে কিংবা সত্যবাদী
বলবো নাকো যদিও বা সব জানি,
ভাগ্নে হয়ে কেমনে বলো 
করি খালার মান হানি।
খোদা জানে কোন অবলার প্রাণ পতিকে
পরিচয় দিলে বলে তোমার আপন স্বামী,
আদৌ তুমি বিবাহিতা কি না
প্রশ্ন মনে, জানে অন্তর্যামী।
আমি সরল মানুষ তাই বোকা ভেবে 
তুমি নীতিকথা শুনালে আমায় কত,
যে কারণে তোমার কাছে হলাম মিথ্যেবাদী 
সেই সে কাজে এখন তুমিও আমার মত।
২৮ মে ২০০৭ খ্রি., সোনারামপুর, আশুগঞ্জ, বি-বাড়িয়া।
 


মোদের এ বসুন্ধরা
উড়ে উড়ে পাড়ি দিয়েছি শত সহস্র আকাশ,
দূর্দান্ত হয়ে ছুটেছি, পাল্লায় হেরেছে বাতাস।
ধরে এনেছি এক পাল রাজ-হংসী,
হাতে পেয়ে প্রিয়া আমার হয়েছে খুশি।
বন-জঙ্গল চষে শত শত,
কিছুই পাইনি প্রিয়ার মত।
এনেছি বেঁধে মায়াবী হরিণ,
সাচ্ছন্দ্যে উল্লাসে কাটল দিন।
কত পাহাড় পর্বত গড়ায়ে উঠেছি,
এ দুনিয়ায় কত কিছুই না দেখেছি।
কখনো চাক্ষুষ দেখেছি ঝর্ণা,
মনোহরী রূপে চোখ ফেরে না।
শতাধিক বারিধিও দিয়েছি পাড়ি,
এনেছি তার বক্ষ হতে মুক্তো কাড়ি।
মনের হর্ষে গেঁথেছি মালা, মুক্তো দানা দিয়ে,
এ মালা গলায় পরে নাচবে আমার প্রিয়ে।
বিধির হাতে বিচিত্র করে গড়া এ ধরা, 
দেখে সাধ মেটেনা মোদের এ বসুন্ধরা ॥



 
ঘুমের ঘরে জ্বালাইও না
দিনের ক্লান্তি শেষে ঘুমিয়ে পড়ি
তিমিরের পোশাক পরে।
তোমার প্রতিচ্ছবি ধরা দেয়
আমার চোখে ঘুমের ঘরে।
স্বপ্নে দেখি তুমি আমায় নিয়ে
হারিয়ে যাচ্ছ অজানায়,
অচিন দেশ দেখে হই অবাক
ভিড়ল তরী অজানায়।
বিস্তীর্ণ সে খোলা মাঠে
তুমি আমি করি খেলা,
পশ্চিমাকাশে সূর্যাস্তে
শেষ হয়ে যায় বেলা।
নদীর বাঁকে সাঁতার কাটি
আমরা দু’জনে,
মিলনের বাঁশী বেজে উঠে
নয়ন নয়নে।
ঘুমের ঘরে জ্বালাতন কর
জেগে থেকে কেন তোমায় পাই না,
না এসে মোর কাছে স্বশরীরে
ঘুমের ঘরে আর জ্বালাইও না ॥
 


অধ্যবসায়
হেলায় খেলায় যবে দিন বয়ে যায়,
প্রয়োজন হয় তখন অধ্যবসায়।
সফলতা চাও যদি দুনিয়া জীবন,
অধ্যবসায় তবে বড়ই প্রয়োজন।
অধ্যবসায় ডেকে আনে জীবনে সফলতা,
নয়তো জীবনে থেকে যায় চরম ব্যর্থতা।

অধ্যবসায় মূল্যায়ন যে না জানে,
অহরহ ব্যর্থতা বর্ষে তার পানে।
সময়ে অধ্যবসায় করে যে জন,
গন্তব্যে পৌঁছতে থাকে সে প্রতিক্ষণ।

কাজ কর্মে ব্যর্থ হলে মনে রেখে চেতন,
সাথে সাথে অধ্যবসায় করিও স্মরণ।
বলতে পারো অধ্যবসায় ছাড়া,
সফল হয়েছে ভবে কে বা কারা।
২২/০১/২০০২ ইং, কলমপুর, ভৈরব, কিশোরগঞ্জ।
 


চোখের সামনে
আমার চোখের সামনে তুমি
ছিলে মাত্র ক’টা দিন,
ফিরে যাবার পর মোর হৃদে
বাজে বেদনার বীণ।
বন্ধু এসেই যদি ছিলে তুমি
থাকলে না কেন সারা জীবন ॥
তোমায় আপন করার লাগি
তোমার পানে সদা চেয়ে থাকি,
মিষ্টি হেসে বলতে আমায়
নাই কি তব লজ্জা-শরম।
তুমি ছাড়া আমি বাঁচা থেকে
বেশ ভাল হবে গো মরণ ॥
আমার চোখেতে চোখ রেখে
বল্লে না কেন করবে বিয়ে,
ফিরে গেলে পরের ঘরে
অঢেল ব্যথা বুকে নিয়ে।
কত স্বপ্ন ছিল মোর বুকে
একই সাথে কাটাবো জীবন ॥
 



বিদায়ী ক্ষণ
বিদায়-পূর্ব রজনীতে আকাশের নিচে দাঁড়িয়েছি যখন,
চতুর্দশী পূর্ণিমার চাঁদ মাথার উপরে ঝুলছে তখন।
সাদা সাদা মেঘের ভেলা ছড়িয়ে ছিঁটিয়ে আছে আকাশে,
চাঁদটাকে আড়াল করতে চেয়ে মিলিয়ে যায় বাতাসে।
দু’ একটি তারাও আমার সাথে তন্দ্রাহারা,
ঘুমন্ত প্রকৃতিতে আমি আজ বাঁধন হারা।
নদীর বুকে চাঁদের আলো প্রেমের রেখা,
দূর পল্লীতে জোনাকীর আলো যায় দেখা।
ব্যথার তুফান বুকে নিয়ে সাথীরা ঘুমে কাতর,
মনভাঙ্গা বিদায়ী ব্যথায় চেঁপেছে বুকে পাথর।
ঠায় দাঁড়িয়ে সারি সারি তাল নারকেলের গাছ,
চলে যাবো দূরে তাই ওরা আমায় দিয়েছে পাছ।
আমায় তুমি দিয়েছিলে পাছ বিদায় নিয়ে আসার ক্ষণে,
তোমার দু’ফোটা অশ্রু রুমালে ধরেছিলাম, পড়ে গো মনে।
সে রুমালে আজো আমি তোমার অশ্রুর গন্ধ পাই,
মন ভাঙ্গা বেদনা ভরা মুখটা আজো ভুলি নাই।
চেয়েছিলে পথ পানে দৃষ্টি যায় যত দূর,
আমার হৃদয়ে বয়ে যায় বেদনার সুর।
বিদায়ী ব্যথায় মন কাঁদে কবে যে পাবো দরশন,
আমাদের আহত মন শিকলে বাঁধা বিদায়ী ক্ষণ ॥

 
 
হলাম যাযাবর
ছন্দ পতন হয়েছে চলার মচকে গেছে পা,
অসময়ে বুঝতে পারি আমিইতো আমার না।
যার নাড়ীছেঁড়া ধন সে মা-ই বুঝল না ব্যথা,
ভেবেছে আমায় অপদার্থ পুষেছে অযথা।
মুখ দেখে যে মা আমার হৃদ-কাব্য পাঠের কথা,
চিৎকার করে বুঝাতে পারিনি তারে দুঃখ-ব্যথা।
প্রাণের প্রিয়াও বুঝে না কথা করে যে পাগলামী,
মুখের উপর বলে কথা ভুলে যায় আমি স্বামী।
ধরার বুকে আর কেউ কি বুঝবে আমার কথা?
মায়ের আঁচলের সোহাগে কে ভুলাবে ব্যথা?
ত্যাগ করে সবার সঙ্গ আজ একাকী বাঁচি,
যার দ্বারে যাই পাই ব্যথা আমি সব্যসাচী।
কপাল পোড়ার ভবে আর হল না বুঝি ঘর,
মুখ দোষে আজ সর্বহারা হলাম যাযাবর।
বুধবার, ০৮ মে ২০১৬, বাহেরবালী, বাজিতপুর, কিশোরগঞ্জ।


কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.