তোমাকে তুলে দিলাম দুখের তরীতে
সংসার সমুদ্রে জীবন তরী ভাসছে দিবানিশি,
দুঃখ-কষ্টের অশ্রু হবে, মুখে ফুটবে সুখের হাসি।
এক মুদ্রার এপিট ওপিঠ বা পাখির দুই ডানা,
দুঃখ সুখ পাশাপাশি বহে জগৎ জনের জানা।
সুখটা কারো বেশিই থাকে কারো রয় দুঃখ,
বারো মাস দুঃখ আমার নেই একটু সুখ।
জ্ঞান-বুদ্ধি লোপ পেয়েছে পালিয়েছে ভালোবাসা,
বন্ধু-স্বজন সরে গেছে দেখে হতাশা দুর্দশা।
বিষাদ-ভরা জীবন থেকে পেতে মিছে মুক্তির স্বাদ,
গভীরভাবে অনুভব করতে কষ্টদের নিনাদ,
স্বেচ্ছা নির্বাসিত হলাম মায়া মমতা সব ভুলে,
সংসার ধর্ম, প্রিয়ার সঙ্গ ত্যাগিলাম
সমূলে।
একাকীত্বের বেদনায় ক্ষত-বিক্ষত হবে নির্বাসিত জীবন,
মূহুর্তে মূহুর্তে মরণ যন্ত্রণা হবে এইতো তাহার ধরণ।
কিন্তু আমার নির্বাসিত জীবনে এ কথা পুরাই বেহুদা,
একাকীত্ব আমার মধুময় করল তোমার প্রেমসুধা।
কষ্টের বদলে সুখের সাগরে করলাম নিত্য অবগাহন,
অকুল সাগরে সাঁতার ছেড়ে ময়ূরপঙ্খী করলাম বাহন।
চাঁদ হয়ে আমায় জোছনা দিলে সূর্য হয়ে দিলে কিরণ,
আমি পথিক সে সব নিতে একবারও করিনি বারণ।
বাতাস হয়ে নিঃশ্বাস দিলে, মেঘ হয়ে দিলে বৃষ্টি,
হৃদয়ের কালিমা ধুয়ে দিয়ে করলে প্রেমের সৃষ্টি।
প্রেমের দোলায় দুলছি আমি দুলছে তোমার মন,
কষ্টের আঁধার দূরীভূত হয়ে আলোকিত ভূবন।
বেহিসেবে দিচ্ছ ঢের পাচ্ছি টের প্রেম-ভালোবাসা,
পেয়ে তা হতাশার সাগরে পেলাম বাঁচার আশা।
স্বপ্ন দেখি স্বপ্ন দেখাই হয় স্বপ্ন বিনিময়,
আমার মনে যে স্বপ্ন তোমার মনেও নিশ্চয়।
স্বপ্ন মাঝে বিভোর হয়ে ভুলি আমি যে যাযাবর,
ভুলে যাই যাযাবরদের হয় নাতো বাঁধা ঘর।
গৃহত্যাগী মানুষ আমি নির্বাসনে এসে,
ক্রমে ক্রমে তোমার প্রেমে গেলাম যে ফেঁসে।
সে সময়ে ফেলে আসা ঘর দেয় যে হাতছানি,
সে কথা জানলে নিশ্চয় ঝরবেই চোখে পানি।
সুপ্ত মায়া জেগে উঠে মনে ফিরবো বলে ঘরে,
আমাদের প্রেম দেবে যাবে চোরাবালির চরে।
প্রস্ফুটিত গোলাপ তুমি হাসোজ্জ্বল মুখে,
মায়ার কাননে তুমি হাসতেছিলে সুখে।
সেখান থেকে ছিঁড়ে এনে তোমায় রাখলাম ফুলদানিতে,
ফেরার পথে তোমায় তুলে দিয়ে এলাম দুখের তরীতে।।
০১ জুলাই ২০১৬, শুক্রবার, রামপুরা,
ঢাকা।

কোন মন্তব্য নেই: