কবিতা: সভ্য নাগরিক -হাসান কবীর
সভ্য নাগরিক
আমরা দেশের সভ্য নাগরিক
সময় মত শুধু ট্যাক্স দেব
আর পণ্য কিনলে ভ্যাট দেব।
বিনিময়ে কর্তার ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায়
যদি অপাংক্তেয়ও কিছু জুটে মোটে
স্বর্গের অমৃত মনে করে উপচে পড়ে
যে যার মত নেব লুটে।
এ ছাড়া রাষ্ট্রযন্ত্রের চালকেরা
যখন যা আদেশ জারি করেন
নির্বাক তা মান্য করবো ।
এইতো আমাদের কাজ ।
আমরা যে সভ্য দেশের
একান্ত সু-সভ্য নাগরিক।
এর বাইরে যেন আমাদের আর
কিছু চাওয়ার বা পাওয়ার নেই।
যদিও ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে
বা নির্বিচারে পুলিশের গুলিতে
মৃত্যুর সীমানা পাড়ি দেয়ায়
আমার অবুঝ সন্তানটি
মায়ানমারের রক্তখেকো সামরিক জান্তার
রোষানলের শিকার
রোহিঙ্গা শিশুর মত
অনাথ হয়ে যাক না কেন!
যে রোহিঙ্গা অনাথ শিশু
আর কোন দিন গ্রীষ্মের ক্লান্ত দুপুরে
গাছের ছায়ায় খেতের আইলে বাবার সাথে
খুনসুটিতে মেতে উঠার সুযোগ পাবে না
শাপলা শালুক আর পদ্ম ভরা পুকুরে
ডুব সাঁতারে মেতে উঠতে পারবে না।
বসন্তের বিকেলে বাবার কাধে চড়ে
নদীর তীরে বেড়াতে যাবার বায়না ধরবে না
শীতের সন্ধ্যায় পিঠাপুরি খেতে
রাস্তার মোড়ের দোকানে যেতে চাইবে না
যেতে চাইবে না ঈদগাহে ঈদের জামাতে
কিংবা কোরবানির পশুর হাট বা
বৈশাখী মেলাতে ।
বাবার পিঠে সওয়ার হয়ে
ত্যাজী ঘোড়া হাকিয়ে যাবে না রণে ।
আর কোন দিন বাবার গলা জড়িয়ে ধরে
খোশ গল্পে আহ্লাদে আটখানা হয়ে ঘুমুতে পারবে না
ঘুমের ঘরে কেদে উঠে বলবে না
বাবা তুমি কোথায়? আমি ভয় পেয়েছি ।
তোমার হাত দিয়ে আমাকে শক্ত করে ধর
আমাকে অভয় দাও বাবা।
যে শিশুর মানসপট থেকে মুছে যাবে
বাবার স্মৃতি ছায়াছবি
যে শিশু জানবে না বড় হওয়া কাকে বলে
পিতার আদর কেমন হয়
কী গভীর মমতা জড়িয়ে আছে পিতা শব্দটির সাথে।
বাবা ডাকতে না পারার অব্যক্ত যন্ত্রণা
নিদারুণ ক্ষত কষ্ট জ্বালা।
এ অপূরণীয় ক্ষতি পোষাবে কিনা কে জানে
তবুও ট্যাক্স ভ্যাট দিয়ে রাজ আদেশ পালন করে
সে ও হবে সভ্য নাগরিক!

কোন মন্তব্য নেই: