গল্প: মমতাময়ীর মায়া -হাসান কবীর
বৈশাখ মাস আসতে আরো সপ্তাহ দশদিন বাকি। দুপুরের কাঠফাটা রোদ্দুরের ঝলমলে সূর্যটা হঠাৎ করেই কালো মেঘে ঢেকে গেলো। পুরো আকাশটা কালো মেঘে ছেয়ে গেলো দেখতে দেখতেই। বজ্রপাত শুরু হলো বৃষ্টি শুরুর আগেই। স¤প্রতি বৃষ্টিপাত ছাড়াই বজ্রপাত হয়। বৃষ্টির উদ্রেগ হলেই হলো। এমনি গুড়–ম গুড়–ম শব্দে বজ্রপাত শুরু হয়। এতে মৃত্যুর পরিমাণও উলেখযোগ্য হারে বেড়েছে। পরিবেশের প্রতি মানুষের অবিচারের কারণেই পরিবেশও মানুষের প্রতি আগ্রাসী হয়ে উঠেছে। মাঠ-ঘাট-খলায় ছড়ানো ছিঁটানো ধান, ধানের মুড়ি এলোমেলো ফেলে রেখেই জানের ভয়ে গরু-বাছুর নিয়ে কোনোমতে নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটেছে মানুষ। এতে লোকে লোকারণ্য মাঠটা মুহূর্তেই ফাঁকা হয়ে গেলো।
স্কুলে যথারীতি পাঠদান কার্যক্রম চলছিল। অবস্থা বেগতিক দেখে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ করে শিক্ষক মিলানয়তনে ফিরে এলেন রিয়াদ মাস্টার। এসে দেখেন অন্যরা তার আগেই শ্রেণি কক্ষ ত্যাগ করে চলে এসেছেন। গ্রাম বিচ্ছিন্ন খোলা ময়দানে স্কুল। গ্রাম থেকে মোটামুটি দূরে খোলা মাঠে নিম্নভূমিতে ইট-সিমেন্টের খুটির উপর দাঁড়িয়ে আছে দৃষ্টিনন্দন স্কুলটি। দেশের অনেক স্থান থেকে কৌতুহলী দর্শনার্থীরা এ স্কুলটি দেখতে আসে সারা বছর। ভরা বর্ষায় দর্শনার্থীর আনাগোনা থাকে একটু বেশি। বছরের প্রায় সাত মাস স্কুলে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম নৌকা। বাকি পাঁচ মাস পায়ে হেঁটে স্কুলে যাতায়াত করা যায়। এখন শুষ্ক মৌসুম। তাই পায়ে হাঁটার পথ উন্মুক্ত। অবশ্য ক’দিন পরই এ পথ তলিয়ে যাবে বর্ষার পানিতে। তখন আবার নৌকার উপর নির্ভর ছাড়া উপায় থাকবে না।
পায়ে হাঁটার পথ হলেও এ দুর্যোগপূর্ণ মূহুর্তে শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরতে পারবে না। অনেকের বাড়ি স্কুল থেকে মাইল দুয়েক দূরে। মাঝ খানটায় খোলা মাঠ। কাছের শিক্ষার্থীদেরও এ মূহুর্তে বাইরে ছাড়া নিরাপদ নয়। স্কুলের প্রধান ফটক বন্ধ। শিক্ষার্থীরা বারান্দায় এলোমেলো হয়ে ঘুরাফেরা আর কোলাহলে মেতে আছে। শিক্ষক কর্মচারীরা মিলনায়তনে গল্পে মগ্ন। আকাশে মেঘ গর্জন আর বজ্রপাত বেড়েই চলেছে। সেই সাথে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। চারদিক অন্ধকার করে বৃষ্টি নেমেছে।
রিয়াদ মাস্টারের মন বসছে না গল্পে। তিনি বেরিয়ে এলেন বারান্দায়। এসে শিক্ষার্থীদের সতর্ক করতে লাগলেন। তাদের শ্রেণিকক্ষের ভেতরে অবস্থান করার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে লাগলেন। বজ্রপাত বারান্দায়ও আছড়ে পড়তে পারে এ কথাটা শিক্ষার্থীদেরকে বুঝাতে সক্ষম হলেন। শিক্ষার্থীদের কাছে রিয়াদ মাস্টার অন্যদের তুলনায় একটু আলাদা কদর পেয়ে থাকেন তার আলাদা বৈশিষ্ট্যের কারণে। বিশেষত শিক্ষার্থীদের চাওয়া, পাওয়া আর তাদের হিতাকাঙ্খী হিসেবে কথার সাথে বাস্তবতার মিলের কারণে। শিক্ষার্থীরা তার কথা মতো সবাই যার যার শ্রেণিকক্ষে অবস্থান করতে লাগলো।
শিক্ষার্থীদেরকে শ্রেণি কক্ষে পাঠিয়ে তিনি শিক্ষক মিলনায়তনের দিকে ফিরছেন। এমন সময় একটি দৃশ্যে তার চোখ আটকে যায়। গ্রাম থেকে এক মহিলা সাথে আট-দশ বছরের এক ছোট মেয়েকে নিয়ে মাঠে নেমেছে। প্রচণ্ড বাতাসের কারণে এক পা এগুলে দুই পা পিছিয়ে যাবার উপক্রম প্রায়। মাথার উপরেতো মেঘের গর্জন ধ্বনি আর বজ্রসহ বৃষ্টিপাত রয়েছেই। এসব উপেক্ষা করেই তারা পথ চলছে। এগিয়ে যাচ্ছে নদীর তীরের দিকে। এই দুর্যোগে যখন সবল পুরুষ লোকেরাও মাঠ থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরেছে, তখন এই মহিলা বাচ্ছা নিয়ে কেন মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তা তাকে ভাবিয়ে তোলে। মনে মনে অনেক কিছু কল্পনা করে ফেলেন তিনি। একবার ভাবেন, মহিলাটি বিধবা হবে হয়তো। পিতৃহারা সন্তানদের নিয়ে অনেক কষ্টে দিন গুজরান করেন। হয়তো তার হাসের পাল নদীতে রয়ে গেছে। এগুলো হারিয়ে গেলে তার বেঁচে থাকার অবলম্বন হারিয়ে যাবে। সন্তানাদি নিয়ে আরো বেশি কষ্টের মাঝে পড়বেন। অথবা তার গরু-বাছুর বা ছাগল হয়তো নদী তীরে বাঁধা রয়েছে। সেটি হারিয়ে গেলে বা বজ্রপাতে মারা গেলে তার সংসার যাতনা আরো বেশি বেড়ে যাবে। যা মৃত্যুর চেয়ে যন্ত্রণাদায়ক হবে। তাই হয়তো মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছে। অথবা বদমেজাজী স্বামীর নিদারুণ অত্যাচারের মুখোমুখি হতে হবে কোন অর্থ-সম্বল খোয়ানোর কারণে ইত্যাদি।
আবার ভাবে, উন্নত দেশগুলোতে তার নাগরিকদের বিভিন্ন ভাতা দেয়া হয়। যা তাদের স্বাভাবিকভাবে জীবন যাপনের জন্যে যথেষ্ট। বিশেষত ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রের রূপরেখায় বিধবাদের জন্য বিধবা ভাতা, এতীম, অসহায়, দুঃস্থদের জন্য ভাতা দেয়ার রূপ রেখা বর্ণিত আছে। যদি আমাদের রাষ্ট্র ব্যবস্থা তেমন হতো তাহলে হয়তো আর মানুষগুলোকে এভাবে মৃত্যুর কাছাকাছি আসতে হতো না। যদিও আমাদের দেশে বর্তমানে বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা ইত্যাদি চালু আছে। তবে তা নামমাত্র চালু আছে বলেই তার কাছে মনে হয়। যেখানে অসাধু চক্রের কারণে মাত্র এক কেজি পেঁয়াজের দাম দুই শত টাকা হয়ে যায়, চালের কেজি পঞ্চাশ টাকার উপরে চলে যায়, সেখানে মাসিক পাঁচ শত টাকা ভাতা গরীবের সাথে উপহাসের নামান্তরই মনে হয় তার কাছে। তবুও কিছু একটা পায়, এই সান্ত্বনাও কম কিসে এই জীবন-মৃত্যুর ঝুঁকি নেয়া মানুষগুলোর কাছে? এই কথাটা ভেবে একেবারে থ হয়ে যান তিনি।
ভাবতে ভাবতে এক সময় হারিয়ে যান বিশ-পঁচিশ বছর আগের কোন এক বর্ষার বিকেলে। শ্রাবণের দিন। সকাল থেকেই অঝোরে বৃষ্টি হচ্ছে। দুপুরের দিকে খানিকটা বৃষ্টি থামলেও আবারো অঝোরে বৃষ্টি হচ্ছে। রিয়াদ মাস্টার তখন নূরানী মাদ্রাসার ছাত্র। মাদ্রাসায় আবাসিক থেকে লেখাপড়া করে। কিভাবে জীবন পরিচালনা করলে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ লাভ হবে, তা শেখে। তার সাথে আরো ষাট-সত্তুর জন থাকে। ভোর রাতে আযানের আগে উঠে কুরআন শরীফ পড়তে বসে। আযান হলে সুন্নত পড়ে সবাই জামাতে নামায আদায় করে। নামায শেষে দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় দোয়া-কালাম পড়ে সকালের নাস্তা সারে। বাহিরের খাবার স্বাস্থ্যসম্মত নয় বলে বাড়ি থেকে নিয়ে আসা চিড়া-মুড়ি-গুড় ইত্যাদি দিয়েই নাস্তা করে অধিকাংশ শিক্ষার্থী। কিছু কিছু শিক্ষার্থী দোকানের নাস্তার উপরও নির্ভরশীল। মাদ্রাসার পাশেই একটা পিঠা-পুরির দোকান আছে। ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা, পুরি-সিঙ্গারা হয় সাধারণত এ দোকানে। সকাল বেলায় মাদ্রাসা ছাত্রদের কারণে প্রচণ্ড ভীড় থাকে দোকানটিতে।
নাস্তা সেরে প্রতিদিনের পড়া শেষে সকাল নয়টা থেকে দশটা পর্যন্ত গোসল ইত্যাদি সেরে ক্লাসে যায়। দুপুর একটা পর্যন্ত ক্লাস চলে। ক্লাস শেষ করে যোহরের নামায আদায় ও খাবার সেরে একটু ঘুমিয়ে নেয়। আবার আসরের নামাযের আগে উঠে পড়ায় বসে। আসরের আযান হলে নামায পড়ে বিকেলটা মাদ্রাসা সংলগ্ন খোলা মাঠে সহপাঠীরা দল বেঁধে ঘুরাফেরা করে এসে মাগরিবের নামায পড়ে পড়তে বসে। এশার আযান হলে জামাতে নামায আদায় করে খেয়ে দেয়ে একটু পড়াশোনা করে ঘুমুতে যায়। এভাবেই নির্ভাবনায় দিনগুলো কাটতো। তখন কোন চিন্তা ছিল না মনে। শুধু একটা চিন্তাই কাজ করতো, কখন বৃহস্পতিবার আসবে। মায়ের কাছে যাবে। কখন পরীক্ষার বন্ধ, রোযার বন্ধ পড়বে, বাড়ির বন্ধুদের সাথে জমিয়ে আড্ডা দেবে। মাদ্রাসায় শেখা দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় দোয়া-কালাম, মাসআলা-মাসায়েল ইত্যাদি বাড়ির বন্ধুদেরকে কিছুটা শিক্ষা দেবে।
বৃষ্টির কারণে মসজিদের যাবার সুযোগ হয়নি। মক্তবের দায়িত্বশীল হুজুর ছাত্রদের নিয়ে আবাসিক ঘরেই জামাতে নামায আদায় করলেন। নামাযের সালাম ফিরিয়ে রিয়াদ দেখে তার ছোট ভাই রাসেল মক্তব ঘরের সামনের কৃষ্ণচূড়া গাছটির নিচে কাকভেজা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। হুজুরের অনুমতি নিয়ে দ্রুত ছোট ভাইকে ঘরে এনে বাড়ির খবরাখবর জানতে চায়। ছোট ভাইয়ের কাছে জানতে পারে তার মায়ের প্রেসার উঠেছে। তাই তাকে যেতে বলেছে। কথাটা শুনে অবুঝ রিয়াদের চোখ দুটি অশ্রুপূর্ণ হয়ে যায়। কারণ কদিন আগেই বাবা মারা গেছেন। বাবার আদর বুঝেনি। এখন আবার যদি মা-ও চলে যায়, তাহলে তারা তিনটে ভাই কার কাছে থাকবে? সে-ই-তো সবার বড়। বাকি দুটো ভাই ছোট। অভাবের সংসার। ছোট ভাইটি দুই মাইল পথ এই ঝড়-বৃষ্টিতে হেঁটে এসেছে এটা নিশ্চিত। কালক্ষেপন না করে দ্রুত বুড়া হুজুরের কাছে চলে যায় সে। বুড়া হুজুর রিয়াদকে খুব আদর করেন। মায়ের প্রেসারের কথা বলে হুজুরের কাছে ছুটি চায় রিয়াদ। হুজুর জানতে চান, হাইপ্রেসার না লো প্রেসার? এসব কিছুই বুঝে না রিয়াদ। তবুও বলে দেয় হাই প্রেসার। তিনি দ্রুত ছুটি দিয়ে দেন রিয়াদকে। সেই সাথে বলে দেন সাবধানে যেতে, মাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে । হুজুরের কাছ থেকে ছুটি নিয়ে ছোট ভাইকে নিয়ে বাড়ির পথে পা বাড়ায় রিয়াদ।
সে যখন মক্তব ঘর থেকে বের হয় তখন বৃষ্টির চাপ কিছুটা কম। দুই ভাই বাড়ির পথে হাঁটছে। রাস্তা ঘাটে লোকজন নেই। নেই যানবাহনও। শনিবারে বাড়ি থেকে আসার সময় মা হাত খরচের জন্যে যে বিশ টাকা দিয়েছিল, তার থেকে বারো টাকা রয়ে গেছে। রিক্সা পেলে ছয় টাকায় বাড়ি যাওয়া যেত। কিন্তু রিক্সা নেই। দ্রুত পায়ে হেঁটেই যাত্রা করে তারা। মাদ্রাসার গেট পেরিয়ে বাড়ির রাস্তা ধরে হাঁটছে তারা। পিচ্ছিল মেঠো পথ। দুই ধারে ঝাউবন। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে। মেঘপূর্ণ অন্ধকার আকাশ আর ঝাউবনের ঘন পাতার কারণে রাস্তাটাও অন্ধকার হয়ে গেছে। চারিদিকে কেমন যেন ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে। বৃষ্টির চাপও বেড়েছে অনেক।
ছোট ভাইয়ের কাঁধে হাত রেখে দুই ভাই গলাগলি করে হাঁটছে। মনে মনে দোয়া-কালাম পড়ছে রিয়াদ। আর ছোট ভাইকে ভরসা দিচ্ছে, ভয় পাইস না। কিচ্ছু অইতো না। আমরা আরেকটু আটলে বাড়ি যামু গা। এভাবে দুই ভাই জনমানবহীন মেঠো পথে হাঁটতে হাঁটতে মাদ্রাসা আর বাড়ির মধ্যবর্তী জায়গায় চলে এসেছে। এমন সময় সামনে দিকে মানুষের ছায়ার মত কী যেন একটা তাদের দিয়ে এগিয়ে আসছে। বিষয়টা রিয়াদের ছোট ভাই রাসেলের চোখে প্রথম ধরা দেয়। সে রিয়াদকে দেখায়। রিয়াদ বলে আলা আলা কর। ভয় পাইস না। আমি দোয়া-কালাম পড়তাছি। দেখবি আমাদের কেউ কিছু করতে পারতো না।
দুই ভাই ছায়াটার দিকে নজর রেখে সামনে এগুচ্ছে। যত নিকটবর্তী হচ্ছে ছায়াটা তত বেশি স্পষ্ট হচ্ছে। ক্রমে একটা মানুষের মত দেখা যাচ্ছে। একটু পরেই ছায়াটা তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেলো। এতো আর কেউ নয়, তাদের জনম দুঃখিনী গর্ভধারিনী মমতাময়ী মা। ছাতা হাতে তাদের দিকে এগিয়ে আসছে। মাকে দেখে দুই ভাই দৌড়ে গিয়ে মাকে জড়িয়ে ধরে। ছাতা কি আর প্রচণ্ড বর্ষণ আটকাতে পারে? মায়ের সারা শরীর ভিজে গেছে বৃষ্টির পানিতে। ছাতার কারণে মাথাটা যৎ সামান্য রক্ষা পেয়েছে। মায়ের চেহারা দেখেই রাসেল বুঝতে পারে তাদের চিন্তায় অস্থির হয়ে মমতাময়ী অসুস্থ শরীর নিয়ে এই ঝড় বাদলে ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছেন। রিয়াদ মাকে এক পলক দেখে নিয়ে বলে- মা, তুমি অসুস্থ শরীল লইয়া এই ঝড়ের মাইঝে কেন আইলা?
মা বলে- আমার দুই দুইডা বুকের মানিক ঝড় বাদলের মাইঝে রাইখা ঘরে কেম্বে থাহি ক’। এই ঝড়ের চাইতে বড় ঝড় আমার বুকের মাইধ্যে বইতাছে তরার লাগি। আ, তাড়াতাড়ি বাড়ি যাই। মায়ের কথা শুনে রিয়াদের চোখ থেকে অশ্রুধারা বালির বাধ ভেঙ্গে জোয়ারের পানির মত প্রবাহিত হতে থাকে। বৃষ্টির পানি এই দৃশ্য মমতায়ীর চক্ষুর আড়াল করতে পারে না। ছেলের চোখে পানি দেখে মায়ের চোখেও অশ্রুর ফোয়ারা বয়ে চলে। বৃষ্টির পানিতে চোখের পানি একাকার হয়ে গেলেও রাসেলের চোখ এড়ায় না বিষয়টা। তবু ভেজা গলায় ছেলেকে সান্ত্বনা দিয়ে মমতাময়ী মা বলে- পাগল, কান্দছ কেরে? আ বাড়ি যাই বলেই তিনজন বাড়ির পানে পা বাড়ায়।
সহকর্মীর ডাকে সংবিৎ ফিরে পায় রিয়াদ। ততক্ষণে চোখের সামনে ঝড় বাদল উপেক্ষা করে নদী তীরের দিকে এগিয়ে যাওয়া অভাগী মমতাময়ী মা আর মেয়ের দৃশ্যটা ঘন বৃষ্টির ফোঁটার মধ্যে অদৃশ্য হয়ে যায়। যেমনিভাবে বিশ-পঁচিশ বছর আগে মমতাময়ী মায়ের মায়া সাদৃশ্য চোখের জল বৃষ্টির ফোঁটার মাঝে বিলীন হয়ে গিয়েছিল ।
গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয়- http://raboninco.com/1xc1d

কোন মন্তব্য নেই: